শিরোনাম
গোয়ালন্দে বিএনপি নেতার ভাঙারির দোকানে মিলল সরকারি চোরাই মালামাল, আটক ১ গোয়ালন্দে চাঁদার দাবিতে যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ। দৌলতদিয়া টার্মিনালে নানা খাতে অর্থ আদায়, প্রশ্নের মুখে পরিবহন ব্যবস্থাপনা গোয়ালন্দে স্কুলের গাছ বিক্রিকে কেন্দ্র করে তোলপাড়, অভিযোগ ক্লাব সভাপতি ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ঈদ উপলক্ষে রাজবাড়ীতে ওয়ান নাইট ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে মাদক নির্মূলে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: প্রতিমন্ত্রী খৈয়ম গোয়ালন্দে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ দৌলতদিয়ায় আবারও ‘ডিপার্চার চার্জ’ আতঙ্ক বালিয়াকান্দিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার ভুয়া ডিবি সেজে ছিনতাইয়ের চেষ্টা, সাহসী ইজিবাইক চালককে পুরস্কৃত করলেন এসপি

অপরিকল্পিত ব্রিজে মৃতপ্রায় নদী, বিলীন হচ্ছে গোয়ালন্দের ঐতিহ্যবাহী নৌরুট

স্টাফ রিপোর্টার / ১৬৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার:
রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার এক সময়ের ব্যস্ততম নৌরুট এখন মরা পদ্মা নামে পরিচিত। অপরিকল্পিতভাবে ছোট ব্রিজ নির্মাণের কারণে ফরিদপুরের মমিনখাঁর হাট হয়ে গোয়ালন্দ বাজারমুখী শাখা পদ্মা নদী আজ মৃতপ্রায়। কচুরিপানায় ঢেকে গেছে নদীর বুক, পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে, হারিয়ে যাচ্ছে নদীর সৌন্দর্য ও ঐতিহ্য।

এক সময় এই নদী দিয়ে বড় বড় জাহাজ, পানসি নৌকা ও কৃষিপণ্যবাহী ইঞ্জিনচালিত ট্রলার চলাচল করত। এখন সেখানে ছোট নৌকা চলাচল করাই দুষ্কর হয়ে পড়েছে। গোয়ালন্দ থেকে প্রায় ২০-২৫ কিলোমিটার নদীপথ কচুরিপানা ও সংকুচিত ব্রিজের কারণে পানি প্রবাহ হারিয়ে ফেলছে। দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার ও প্রবেশমুখের ব্রিজ সম্প্রসারণ না করলে একসময় নদীতে পানি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

এক সময় হাজারো মাঝি-মাল্লা ও ব্যবসায়ী নৌকা নিয়ে ভিড় জমাতেন এই ঘাটে। এখন সেই ঘাটে পানি নেই, আছে শুধু কচুরিপানার স্তূপ। দুই যুগ আগেও ফরিদপুরের মমিনখাঁর হাট, কামারডাঙ্গী, মহিদাপুর ও চরকর্ণেশনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষিপণ্য আসত নদীপথে। সপ্তাহে দুই দিন গোয়ালন্দ বাজারের হাটে সারি সারি ট্রলার বাঁধা থাকত। আজ সেই নদীপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের বেদনডাঙ্গী খালপাড়ে ৩৬ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট উচ্চতার একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ৩২ লাখ ৪১ হাজার টাকার এই ব্রিজটি নকশাগতভাবে ছোট হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নদীর প্রবাহ ব্যাহত হয়ে কচুরিপানায় ভরে যায় পুরো নদীপথ।

এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মৎস্যজীবী, জেলে ও কৃষকরা। পানির প্রবাহ না থাকায় মাছের প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি চাষাবাদেও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ও কৃষি উদ্যোক্তা বলেন, আমাদের বড়রা বলতেন, ব্রিটিশ আমলে এই নদীতে বড় বড় জাহাজ চলত। ২০-২৫ বছর আগেও ট্রলারযোগে সারা দেশ থেকে কৃষিপণ্য আনতাম খুব সহজে। খরচও কম ছিল। কিন্তু প্রবেশ মুখে অপরিকল্পিত ব্রিজ তৈরি হওয়ায় এবং কচুরিপানায় নদী ভরে যাওয়ায় এখন নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন,যদি প্রবেশমুখের ব্রিজটি প্রসারিত করা হয় এবং নদী পরিষ্কার করা হয়, তাহলে আবারও বর্ষা মৌসুমে কম খরচে পণ্য পরিবহন করা সম্ভব হবে।

সচেতন নাগরিকদের মতে, মরা পদ্মার কচুরিপানা অপসারণ ও ব্রিজ সম্প্রসারণ করলে নদীর প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর উদ্যোগ নিলে গোয়ালন্দের হারানো নৌ ঐতিহ্য আবারও ফিরে পাওয়া সম্ভব।

 

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg