শিরোনাম
পাংশায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে আসছেন অর্থ উপদেষ্টাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গোয়ালন্দে পাচারের সময় সরকারি সার আটক, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রাজবাড়ী ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান গোয়ালন্দে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহসহ ১০ দফা দাবিতে কৃষক সমিতির বিক্ষোভ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যৌনকর্মীর মাথা থেঁতলানো রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার বালিয়াকান্দিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধের অভিযোগ, প্রথম কর্মদিবসেই পরিস্থিতি শান্ত করে প্রশংসিত ইউএনও মুরাদ ইসলাম রাজবাড়ীতে গণশুনানি: নাগরিকদের অভিযোগ শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ডিসির গোয়ালন্দে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন ওসি পাংশায় সচল পাইপগান ও তাজা কার্তুজসহ দুইজন গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর দুর্গম চরাঞ্চলে বন্ধ হয়ে আছে সোনালী সকাল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

স্টাফ রিপোর্টার / ১০৭৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫

0Shares
  1. রাজু আহমেদ, রাজবাড়ী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেতকা ও রাখালগাছি চর। পদ্মা নদীর কোলে অবস্থিত এ চরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম স্পিডবোট, ট্রলার বা নৌকা। বিচ্ছিন্ন এই জনপদের মানুষ নাগরিক সুবিধা থেকে অনেকাংশে বঞ্চিত।

ইতিহাস বলছে, এই চরাঞ্চল বহুবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে আবার জেগে উঠেছে। বর্তমানে এখানে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবারের বসবাস, যাদের বেশিরভাগেরই নিজস্ব জমি নেই। তারা বছরে চুক্তিভিত্তিক জমি নিয়ে বসতঘর নির্মাণ করে থাকেন। জীবিকার উৎস মূলত নদীভিত্তিক—নৌকা ও ট্রলার চালানো এবং মাছ ধরা। বর্ষা মৌসুমে চাষাবাদ এবং পশুপালনও চলে।

এই চরাঞ্চলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু রয়েছে যারা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক। এদের জন্য ২০১৭ সালে বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয় সোনালী সকাল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। শুরুতে শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় শিশুদের মধ্যে শেখার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। তারা শিখতে থাকে স্বরবর্ণ, ব্যঞ্জনবর্ণ, কবিতা এবং পরিষ্কারভাবে শব্দ উচ্চারণ করা। কিন্তু বর্তমানে সেই বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে গেছে।

কারণ হিসেবে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন না। উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে যে অল্প কিছু আর্থিক সহায়তা আসতো, সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে শিক্ষকরাও চলে গেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একসময় যেসব শিশু কথা বলতে বা লিখতে পারতো না, তারা এখন অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তারা শিখেছিল পরিচ্ছন্নতা, বর্ণমালা, কথা বলার অভ্যাস। এসব সম্ভব হয়েছিল শিক্ষকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায়।

প্রতিবন্ধী এক শিশুর বাবা মো. নিজাম বলেন,আমার ছেলেটা আগে কিছুই বুঝতো না। এখন মানুষের সঙ্গে মেশে, কথা বলার চেষ্টা করে, মা-বাবা বলে ডাকে। ইশারায় প্রয়োজন বোঝায়। সবই হয়েছিল এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিকতায়। কিন্তু বিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বেতকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইদ্রিস আলী মোল্লা বলেন,সোনালী সকাল প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এই এলাকার প্রতিবন্ধী শিশুদের অনেক উন্নতি হয়েছিল। কিন্তু শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন না পাওয়ায় এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের ভাতা বন্ধ হওয়ায় বিদ্যালয়টি বন্ধ হয়ে যায়। এটি পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি।বর্তমানে এই চরে প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য নেই কোনো সরকারি সহযোগিতা। স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যালয়টি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে এই অবহেলিত শিশুরা শিক্ষার আলোয় ফিরে আসতে পারে।

 

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg