রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিবাজার এলাকায় পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে নিঃশেষ হতে বসেছে মানুষের বসতভিটা, ফসলি জমি এমনকি কবরস্থান। এমনই এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতিতে একমাত্র ছেলের কবরটি রক্ষা করতে কবরের পাশেই দিনরাত কাটাচ্ছেন ৬৫ বছর বয়সী খবির সরদার।
খবির সরদারের একমাত্র ছেলে মফিজ সরদার ১৫ বছর আগে পারিবারিক মুদি দোকানে জেনারেটর বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। মৃত্যুর পর ছেলেকে দাফন করা হয় পারিবারিক কবরস্থানে। কিন্তু কয়েক বছরের লাগাতার ভাঙনে সেই কবর এখন একেবারে নদীর পাড়ে এসে পড়েছে।
সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার জলোচ্ছ্বাস ও তীব্র স্রোতে ভাঙন আবারও শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে খবির সরদারের শেষ সম্বল সোয়া বিঘা জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন কেবল দুইটি ছাপড়া ঘর ও সেই কবরস্থানই অবশিষ্ট আছে।
খবির সরদারের কণ্ঠে গভীর হতাশা আমার বাপ-দাদার ১০০ বিঘা জমি ছিল। একে একে সব চলে গেল। এখন শুধু ছেলের কবরটাই রক্ষা করার চেষ্টা করছি। সরকার কোনোদিনই আমাদের দিকে নজর দেয়নি।”
স্থানীয়দের মতে, কাওয়ালজানি ও মুন্সিপাড়া এলাকায় নতুন করে শুরু হওয়া ভাঙনে প্রতিদিন নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে জমি, গাছপালা ও বসতবাড়ি।
কাওয়ালজানি এলাকার সোহাগ মিয়া জানান, “শুধু গত দুইদিনেই আমার ১০ বিঘা জমি পদ্মায় বিলীন হয়েছে।”
মুন্সিপাড়ার জামাল সরদার বলেন, “আমার ১০ বিঘার মধ্যে এখন কিছুই নেই, সবই গেল। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা দরকার
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুর রহমান জানান, “দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙনের খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বিআইডব্লিউটিএ’র সঙ্গেও যোগাযোগ চলছে। দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।