স্টাফ রিপোর্টার:রাজবাড়ী পৌর শহরের বড় বাজারে কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার বিরোধকে কেন্দ্র করে পুলিশের উপস্থিতিতে তাকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন,রাজবাড়ী পৌরসভার ধূঞ্চি ১ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জমজম খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), ধূঞ্চি ২৮ কলোনি এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. রুবেল হোসেন (১৯) এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ধূঞ্চি গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮)।
পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাতে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় নয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানা থানায় মামলা করেছেন। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে। মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গত শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী পৌর শহরের বড় বাজার এলাকায় কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে জাকিয়া সুলতানার বিরোধের জেরে তাকে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রাজবাড়ী সদর থানা-পুলিশের উপস্থিতিতে ওই নারীকে রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পেছন থেকে এক যুবক এসে তাকে লাথি মারেন। এরপর আরও কয়েকজন যুবক এগিয়ে এসে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর ও লাথি মারতে থাকেন।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। বিভিন্ন পোস্টে ওই নারীকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। আবার কোথাও এটিকে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানের সময় নারীকে মারধরের ঘটনা বলেও প্রচার করা হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এসব তথ্যের মধ্যে বেশ কিছু তথ্য বিভ্রান্তিকর বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে।