শিরোনাম
রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার গোয়ালন্দে সাবেক বিএনপি নেতাদের স্বাক্ষরে বহিষ্কারাদেশ, প্রশ্নের মুখে সাবেক নেতারা গোয়ালন্দে ১২৮ পিস ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে ডিবির অভিযান: ১০০ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেফতার ১ গোয়ালন্দে স্বপ্ন কুড়ির উদ্যোগে সেরা তিন পুত্রবধূকে সম্মাননা গোয়ালন্দ ভূমি অফিসের চুরির মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় ব্যাহত ভূমি সেবা গোয়ালন্দে সন্ত্রাসী হামলায় মুমূর্ষু যুবক, আসামি গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন দৌলতদিয়ায় বাস ডুবির ঘটনায় চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার গ্রেপ্তার  বালিয়াকান্দিতে ডিএনসির অভিযানে গাঁজাসহ আটক ৬০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ, মোবাইল কোর্টে জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পরিকল্পনা ছাড়াই গোয়ালন্দ আড়ৎপট্টিতে ড্রেন নির্মাণ, ভারি যান চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

মানিকগঞ্জে দুর্নীতির মামলায় মেয়রের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন

স্টাফ রিপোর্টার / ২৮২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১৬ জুন, ২০২২

0Shares

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ১৬জুন
মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. রজমজান আলীর বিরুদ্বে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা তিন মামলায় চার্জ গঠন করেছেন আদালত। এসব মামলায় অভিযুক্ত আছেন পৌরসভার সাবেক কমিশনার হামিদুর রশিদ কাজল, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মট্রু, ইকবাল হোসেন।
গত মঙ্গলবার (১৪ জুন) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মানিকগঞ্জ স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজ উল্লাহ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার নথিপত্র থেকে জানা গেছে, ১৯৯৮ সাল থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের দক্ষিণের জায়গা ভরাটের কাজ দেওয়া হয় মেসার্স মহুয়া কনস্ট্রাকশনের মালিক বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম মট্টুকে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে পৌর মেয়র রমজান আলী একই কাজ বারবার বর্ধিত করেন।
ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে ১৯৯৯ সালে পৌরসভার তহবিল থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার ঘটনা প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রমাণিত হওয়ার তাদের বিরুদ্ধে তৎকালীন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন
অন্যদিকে, ১৯৯৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ কাঁচা বাজারের দক্ষিণ পাশের খাদ ভরাটের কাজও দেওয়া হয় আমিনুল ইসলাম মট্টুকে। পৌরসভার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বাধা দেওয়া স্বত্বেও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ব্যতিরেকে পৌর মেয়র রমজান আলী একই কাজ বারবার বর্ধিত করে ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে করে তিন লাখ ২৫ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ বাদী হয়ে পৌর মেয়র মো. রমজান আলী ও আমিনুল ইসলাম মট্টুকে আসামি করে ২০০৭ সালের ৩ মে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
দুটি মামলাই তদন্ত শেষে ২০০৮ সালে ৩ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম।
আরও একটি মামলা সূত্রে জানা যায়, মেয়র রমজান আলী ও তৎকালীন পৌর সভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার হামিদুর রশিদ কাজলের যোগসাজশে ২০০৪ সালে মানিকগঞ্জ পৌরসভার জিপ মেরামতের নামে দুটি চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা অগ্রিম তুলে তা আত্মসাৎ করেন। এরপর ২০০৬ সালে হামিদুর রশিদ কাজল জিপ মেরামতের জন্য দুটি চেকের মাধ্যমে আরও এক লাখ টাকা অগ্রিম তুলে তা আত্মসাৎ করেন। পরে তাদের বিরদ্ধে ২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল তৎকালীন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।
দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম মামলাটি অধিকতর তদন্ত করে আসামি করেন পৌর মেয়র রমজান আলী, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মো. হামিদুর রশিদ কাজল, মেঘনা মটর ওয়ার্কসের প্রোপাইটার মো. আব্দুল আওয়াল ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মো. ইকবাল হোসেনকে। ২০০৮ সালে ৩ ডিসেম্বর আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দুদকের আইনজীবী স্পেশাল জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজ উল্লাহ বলেন, মামলাগুলোর কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত ছিল। সম্প্রতি হাইকোর্টে বিভাগ নির্দেশ দিয়েছেন মামলাগুলো চলতি বছরের অক্টোবর মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার। নির্দেশ মতো, মামলাগুলো আদালতে উত্থাপন করার পর যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মানিকগঞ্জ সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে বিচারক সিনিয়র স্পেশাল জজ জয়শ্রী সমদার বিশেষ মামলা ৪ ও বিশেষ মামলা ৫ এর চার্জগঠন করেন।
পিপি আরও বলেন, মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, চার্জশিট, ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬১ ধারার জবানবন্দিসহ নথিস্থ কাগজাপত্র পর্যালোচনা করে আসামীদের বিরুদ্বে ১৯৪৭ সালের ২ নম্বর দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) তৎসহ দন্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করেন। একই সঙ্গে মামলার ১ থেকে ৩ নম্বর সাক্ষীদের প্রতি সমন ইস্যু করেন। ৫ জুন সাক্ষীর তারিখ নির্ধারণ ছিল। মামলার বাদী মো. আব্দুল মাজেদ নির্ধারিত তারিখে আদালতে সাক্ষী দিতে আসেন। ওই দিন আসামি পক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, আসামি পক্ষ থেকে মামলাটি হাইকোর্টে রিভিশন করা হয়েছে। এ কারণে আদালতে মামলার কোনো সাক্ষী গ্রহণ করা যাবে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক ১৪ জুন হাইকোর্টের আদেশের কপি আদালতে দাখিল করার আদেশ দেন আসামিপক্ষের আইনজীবীকে। ১৪ জুন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিভিশনের কপি দাখিলের জন্য আবারও সময় জানালে আদালত ২১ জুন পর্যন্ত সময় দিয়েছেন।

দুদকের মামলার চার্জ গঠন বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. রমজান আলী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমাকে হয়রানির জন্যই মামলাগুলো করা হয়েছিল। দুদক যে অভিযোগ এনেছে তার কোনোটিই সত্য নয়। আদালতেই এসব বিষয়ে মোকাবিলা করবো।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg