স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার আড়ৎপট্টি এলাকায় ভারি যানবাহনের চলাচল বিবেচনায় না রেখেই রাস্তার সমতলে আরসিসি (RCC) ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ টন ওজনের পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলকারী এ সড়কে প্রচলিত নকশায় ড্রেন নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা ও অবকাঠামোগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের আওতায় আড়ৎপট্টি এলাকায় প্রায় ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ২ ফুট দেড় ইঞ্চি প্রশস্ত একটি আরসিসি ড্রেন নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ ধরনের ড্রেন সাধারণত ১০ থেকে ১২ টন পর্যন্ত ওজন সহনশীল হিসেবে পরিকল্পনা করা হয়। অথচ আড়ৎপট্টি এলাকার সড়কে নিয়মিত এর দ্বিগুণেরও বেশি ওজনের ট্রাক চলাচল করে।
স্থানীয় বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করতে ড্রেন নির্মাণ অবশ্যই প্রয়োজন। তবে ড্রেনটি এমনভাবে নির্মাণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে ভারি যানবাহনের চাপেও ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রকল্পটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।
স্থানীয় আড়ৎদার রেজাউল করিম মোল্লা, সেলিম শেখ ও ফজলুর রহমানসহ একাধিক ব্যবসায়ী জানান, পেঁয়াজ, রসুন, পাট ও অন্যান্য কৃষিপণ্যবাহী ২০ থেকে ২৫ টন ওজনের ট্রাক প্রতিদিন এ সড়ক ব্যবহার করে। রাস্তার সমতলে নির্মিত ড্রেনের ওপর ট্রাকের চাকা উঠলে ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তারা ড্রেনটিকে অধিক ওজন ধারণক্ষমতা সম্পন্ন করে নির্মাণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী ফেরদৌস আলম খান বলেন, প্রকল্পটি যথাযথ যাচাই-বাছাই ও পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে। এরপরও স্থানীয়দের উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সমাধানের উপায় খোঁজা হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার বিভাগের আইইউজিআইপি প্রকল্পের আওতায় গোয়ালন্দ পৌরসভায় মোট ২ হাজার ৮০৪ মিটার দৈর্ঘ্যের ৬টি ড্রেন এবং ৫ হাজার ৯৮৪ মিটার সড়কের ১০টি রাস্তা সংস্কারের কাজ চলমান রয়েছে। এসব কাজের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ ২৭ হাজার টাকা।
গোয়ালন্দ পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, আড়ৎপট্টি সড়কে ভারি যানবাহনের নিয়মিত চলাচলের বিষয়টি সত্য। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আপাতত ড্রেনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও পরবর্তী নির্দেশনার ভিত্তিতে অবশিষ্ট কাজ সম্পন্ন করা হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ড্রেনের নকশা ও নির্মাণপদ্ধতি পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, যাতে একদিকে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হয় এবং অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যিক এলাকার সড়ক অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ থাকে।