স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় বিএনপি নেতা আইয়ুব আলী খানকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বহিষ্কারাদেশসংবলিত বিজ্ঞপ্তিতে বর্তমান দায়িত্বশীল নেতাদের পরিবর্তে সাবেক নেতাদের স্বাক্ষর থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, গত রোববার রাতে গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপি ও কৃষক দলের প্যাডে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে আইয়ুব আলী খানকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সভাপতি মো. রোস্তম মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব নাজিরুল ইসলাম এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল হালিম ফকিরের স্বাক্ষর রয়েছে।
আইয়ুব আলী খান উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির ৬৪ নম্বর সদস্য এবং দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পরিচিত।
বহিষ্কারাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির বর্তমান সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ বলেন, কোনো নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা বিএনপি বিষয়টি জেলা কমিটির কাছে সুপারিশ আকারে পাঠায়। বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার জেলা বা উচ্চতর কমিটির। সাবেক নেতারা কীভাবে এ ধরনের বহিষ্কারাদেশ প্রদান করেছেন, তা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ আহমেদ বলেন, বর্তমান কমিটি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সাবেক কমিটির নেতারা কাউকে বহিষ্কার করতে পারেন না। এটি সাংগঠনিক নিয়মের পরিপন্থী। তাদের প্রথমবারের মতো নোটিশের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পুনরাবৃত্তি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষরকারী সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নুর বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি দৌলতদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সংঘটিত চুরির ঘটনায় আইয়ুব আলী খানের নাম আলোচনায় আসে। ঈদুল আজহার ছুটির সময় ভূমি অফিস থেকে কম্পিউটার, মনিটর, আইপিএস, মোটর পাম্পসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামাল চুরি হয়। পরে গত ৩১ মে দৌলতদিয়া ক্যানালঘাট এলাকায় আইয়ুব আলী খানের ভাঙারি দোকানে অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চোরাই মালামাল উদ্ধার করে এবং একজনকে আটক করে।
তবে বহিষ্কারাদেশকে ঘিরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান কমিটির অনুমোদন ছাড়া সাবেক নেতাদের স্বাক্ষরে প্রকাশিত কোনো বহিষ্কারাদেশ সাংগঠনিকভাবে কতটা গ্রহণযোগ্য।
ঘটনাটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এ বিষয়ে আইয়ুব আলী খানের বক্তব্য জানা যায়নি। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধি-বিধান অনুসরণ করেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।