শিরোনাম
রাজবাড়ীতে একাধিক মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি মুক্তার মৃধা র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগে গোয়ালন্দ থানায় জিডি দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে পণ্যবাহী ট্রাককে ঘিরে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি ও হয়রানির অভিযোগ অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রাজবাড়ীতে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া পরিষদের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও নাশকতার পরিকল্পনার প্রতিবাদে গোয়ালন্দে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল গোয়ালন্দে বসতঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন এসিল্যান্ড মুনতাসীর দৌলতদিয়ার পুড়াভিটায় মাদকবিরোধী অভিযানে হামলা, হাতকড়াসহ আটক মাদক ব্যবসায়ী ছিনতাই রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা

গোয়ালন্দে নির্বিচারে সড়কের বনায়নের গাছ কাটছে দুর্বৃত্তরা, দেখার কেউ নেই

স্টাফ রিপোর্টার / ৩২৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৭ জুলাই, ২০২৫

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার “রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা হতে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ২ নম্বর বেপারী পাড়া পর্যন্ত মরাপদ্মা নদীর পাড়ঘেঁষা এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত ইট সলিং রাস্তার দুই পাশের বনায়নের গাছ নির্বিচারে কেটে সাবাড় করছে এক শ্রেণির দুর্বৃত্ত। গাছ কাটার এ কার্যক্রম দিনের আলোতেই চলছে, অথচ বন বিভাগ বা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেখা যাচ্ছে না কোনো কার্যকর ব্যবস্থা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মোটা মোটা বাবলা গাছ কেটে ঘোড়ার গাড়িতে করে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে স্থানীয় করাত কলে (স মিল)। স্থানীয়রা জানান, এসব গাছ বিক্রি করছেন দৌলতদিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত ছাত্তার ফকিরের ছেলে ছরোয়ার ফকির। তিনি দাবি করেছেন, “রাস্তার জায়গা আমরা দিয়েছি, তাই গাছগুলো আমাদেরই।”

এ বিষয়ে আরও জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর আগে দৌলতদিয়া ঘাট মহাসড়ক থেকে তেনাপচা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণের পর সরকারিভাবে বন্যা ও নদীভাঙন প্রতিরোধের অংশ হিসেবে রাস্তার দুই পাশে ব্যাপক বনায়ন করা হয়। পরবর্তীতে এলজিইডি রাস্তা ইট সলিং করে এবং স্থানীয় জনগণকে উপকারভোগী করে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বাবলা, বকাইন, বনসিটকি, চিকরাশি প্রভৃতি গাছ লাগানো হয়। বর্তমানে সেই দীর্ঘদিনের পরিবেশবান্ধব গাছগুলো নির্বিচারে কেটে উজাড় করা হচ্ছে।

স্থানীয় তেনাপচা গ্রামের বাসিন্দা শাজাহান শেখও স্বীকার করেন, তিনি তিনটি বাবলা, একটি বকাইন ও একটি বনসিটকি গাছ বিক্রি করেছেন স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ী সিদ্দিক মন্ডলের কাছে। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অনেকেই তো কাটে, কেউ বাধা দেয় না। তাছাড়া গাছগুলো আমরা লাগিয়েছিলাম, তাই কেটেছি।”

স্থানীয় এক সাবেক বন কর্মকর্তা জানান, তিনি কর্মরত অবস্থায় ওই সড়কসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন সড়কে সরকারি নির্দেশে বন্যা প্রতিরোধে গাছ লাগিয়েছিলেন। সেই সব গাছই আজ অবৈধভাবে কাটা হচ্ছে।

এই বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাহিদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, বন বিভাগের দায়িত্বহীনতা ও প্রশাসনিক উদাসীনতার সুযোগে পরিবেশবিনাশী এই তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে শুধু পরিবেশই নয়, নদীভাঙন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে গোয়ালন্দের নদীপাড়ের এলাকাগুলো।

 

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg