স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদানের প্রথম কর্মদিবসেই একটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে নিয়ন্ত্রণ করেছেন নবাগত ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম। তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করায় প্রশংসিত হয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে বালিয়াকান্দি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. তাজমুন্নাহারের বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তুলে উপজেলার ৫৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তার কার্যালয়ে অবস্থান নেন। শিক্ষকদের অভিযোগ, বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন (এসিআর) সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও হয়রানির কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শিক্ষা কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে।
খবর পেয়ে নবাগত ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। পরে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।
আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষকদের অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে এসিআর-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন ইউএনও।
ইউএনওর তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে শিক্ষকরা তাদের অবস্থান প্রত্যাহার করে কার্যালয় থেকে চলে গেলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে নবাগত ইউএনও সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন এমন খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। পরে শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ শুনেছি। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সৈয়দ মুরাদ ইসলাম ৩৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা। বালিয়াকান্দিতে ইউএনও হিসেবে যোগদানের আগে তিনি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি খুলনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।