স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার বাসস্ট্যান্ড থেকে তৌরাই মোড় পর্যন্ত সড়কের পাশে ড্রেন ও ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন অস্থায়ী দোকানপাট। কোথাও ড্রেনের ওপর দোকানের কাঠামো বসানো হয়েছে, আবার কোথাও ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে দোকানের মালামাল। এতে সংকুচিত হয়ে পড়েছে পথচারীদের চলাচলের জায়গা। ফলে বাধ্য হয়ে ব্যস্ত সড়কের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারীদের।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের পাশে পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত ড্রেনের ওপর বিভিন্ন স্থানে দোকানের কাঠামো ও স্থাপনা রয়েছে। অনেক দোকানের ঝাপ ও মালামাল ফুটপাত ছাড়িয়ে সড়কের অংশ পর্যন্ত চলে এসেছে। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সড়কে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় শিশু, শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের সড়কের ওপর দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ব্যস্ত সড়কে এভাবে হাঁটার কারণে যেকোনো সময় যানবাহনের সঙ্গে পথচারীদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের নিয়মিত যাতায়াত থাকায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা বলেন, মানুষের নিরাপদে হাঁটার জন্য ফুটপাত ও সড়কের পাশের জায়গা রাখা হলেও দখলের কারণে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। দোকানের ঝাপ, পণ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন স্থাপনা সড়কের দিকে চলে আসায় পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। একই সঙ্গে যানবাহন চলাচলেও তৈরি হচ্ছে প্রতিবন্ধকতা।
শুধু বাসস্ট্যান্ড থেকে তৌরাই মোড় পর্যন্ত সড়ক নয়, গোয়ালন্দের সবজি বাজার এলাকাতেও একই চিত্র দেখা গেছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, বাজারের বিভিন্ন দোকানি সড়কের জায়গা দখল করে দোকানের পসরা সাজিয়ে বসায় সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মানুষ ও পথচারীদের অনেক সময় দোকান ও মালামালের পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ত সময়ে বাজার এলাকায় পথচারী ও যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে দুর্ভোগ আরও তীব্র হয়। সড়কের জায়গা দখল করে দোকান বসানোর কারণে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
তাদের দাবি, সড়কের পাশের ড্রেন, ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দ্রুত দখলমুক্ত করা প্রয়োজন। দোকানের ঝাপ, মালামাল কিংবা কোনো স্থাপনা যাতে নির্ধারিত সীমানার বাইরে এসে পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়েও নিয়মিত নজরদারি করা দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, পৌরসভা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ড্রেন ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নিক। একই সঙ্গে দখলকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সড়কের পাশে পথচারীদের হাঁটার জায়গাটুকুও যদি দোকানের দখলে চলে যায়, তাহলে মানুষ নিরাপদে হাঁটবে কোথায়?
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক সাইফুল হুদা বলেন, এটি তো দীর্ঘদিন ধরেই এভাবে রয়েছে। আমি আশা করছি, এ বিষয়ে একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারব, যা দৃশ্যমান হবে। ফুটপাত দখলমুক্ত করতে আমরা কার্যকর ব্যবস্থা নেব।