রাজু আহমেদ, (রাজবাড়ী) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বিচ্ছিন্ন রাখালগাছি চরাঞ্চলে ডেজার (ড্রেজার) বসিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। এর প্রতিবাদে সোমবার (২৮ জুলাই) তারা এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
দিগন্তজুড়ে সবুজ ফসলের মাঠ আর পশুচারণের খোলা প্রান্তর নিয়ে রাখালগাছি চরাঞ্চল দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। পদ্মা নদী বেষ্টিত এ চরে একসময় প্রায় ১ হাজার পরিবারের বসবাস ছিল, বর্তমানে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ থেকে ৫ হাজারে। বছরের ৬-৭ মাস পানিতে নিমজ্জিত থাকলেও, অবশিষ্ট সময়ে কৃষি ও পশুপালনই এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা।
সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মরা পদ্মার পাড় ঘেঁষে আছরাই কেন্দ্র এলাকায় বাংলা ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। এতে করে ফসলি জমি নষ্ট হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ এবং সামাজিক অবকাঠামো। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের কারণে আছরাই কেন্দ্র প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হাসেন খাঁ অভিযোগ করে বলেন, “ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় থেকেই এখানে মাটি কাটা হচ্ছে। এলাকার মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে।”
দেবগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, “রাখালগাছি ও বেতকা—এই দুই চরাঞ্চলে আজও একটি কবরস্থান পর্যন্ত নেই। এ যেন চরম অবহেলিত জনপদ।”
২০ বছর ধরে এ চরে বসবাসরত তফসের আলী শেখ বলেন, “আজও এখানে একজন এমবিবিএস ডাক্তার পর্যন্ত আসেননি। স্বাস্থ্যসেবা বলতে কিছু নেই।”
স্থানীয় আমজাদ মন্ডল বলেন, “সব দিক থেকেই বঞ্চিত আমরা। রাস্তা হয়েছে, কিন্তু প্রয়োজনীয় সেবা পাই না।”
তবে এ চরাঞ্চলের সৌন্দর্য ও সম্ভাবনাও কম নয়। বিশাল ফসলি মাঠে শত শত গরু, ছাগল ও ঘোড়া অবাধে ঘুরে বেড়ায়। পশুদের জন্য ঘাসের অভাব নেই, বরং আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিনই ঘাস সংগ্রহে ট্রলার নিয়ে মানুষ আসে। সন্ধ্যার আগে গোয়ালন্দের উড়াকান্দা, অন্তর মোড়, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ঘাসভর্তি ট্রলারের আনাগোনা চোখে পড়ে।
জায়কা প্রকল্পের আওতায় আড়াই কিলোমিটার ইটের রাস্তা নির্মাণের ফলে পাবনা ও আশপাশের অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়েছে। বর্তমানে চরবাসী ভ্যান, অটোরিকশা, নছিমন, করিমন ও ট্রাক দিয়ে কৃষিপণ্য পরিবহন করতে পারছে।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান বলেন, “দেবগ্রামের শেষ সীমানা কুশাহাটার চরে এখন মানুষ ভালোভাবেই বসবাস করছে। চরাঞ্চলের যেকোনো সমস্যা সমাধানে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। তবে ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার মাধ্যমে কেউ যদি এলাকাবাসীর ক্ষতি করে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, “চরাঞ্চলে এখনো কমিউনিটি ক্লিনিক হয়নি, তবে স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে প্রশাসন কাজ করছে।”