মোশারফ হোসেন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর বাঁশগ্রাম আলাউদ্দিন আহমেদ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রশাসনিক ভবনের তিনতলা থেকে মনিরুল ইসলাম নামের একজনের লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার রাত ৯ টার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ব্যক্তি ওই কলেজের অফিস সহায়ক ও উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের মৃত নিয়াত আলীর ছেলে। পুলিশ লাশের সুরতহাল করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় ।
পুলিশ, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে অন্যান্য সহকর্মীদের সাথে কলেজ ত্যাগ করেছিল মনিরুল। কিন্তু কলেজ শেষে তিনি বাড়িতে না যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাঁকে খোঁজাখুজি শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁর ছেলে কলেজের মালি আইয়ুব আলী ও পিয়ন রমজান আলীকে নিয়ে কলেজে খোঁজাখুজি শুরু করে।
এরপর তাঁরা কলেজের প্রশাসনিক ভবনে এসে দেখেন ভিতর থেকে কেচিগেইটে তালা ঝুলানো। পরে তালা খুলে ভিতরের খোঁজাখুজির করেন এবং তাঁর মুঠোফোনে কল দেওয়া হয়। এসময় ফোনের রিংটন বেজে উঠলে ভবনের তিনতলায় গলায় রশি পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়।
আরো জানা গেছে, পরে পুলিশ ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত সোয়া ৯ টার দিকে লাশ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
এবিষয়ে কলেজের মালি আইয়ুব আলী ও পিয়ন রমজান আলী বলেন, বাদ মাগরিব মনিরুলের ছেলে বায়োজিদ জিম আমাদের সাথে করে বাবাকে খুঁজতে কলেজে আসে। এসময় প্রশাসনিক ভবনে এসে দেখি ভিতর থেকে তালা দেওয়া। তালা খুলে আমরা ভিতরে ঢুকে খোঁজাখুজি করি। পরে জিম তাঁর (মনিরুল) ফোনে কল দেয়। রিংটন বেজে উঠলে জিম তিনতলায় গিয়ে চিৎকার করে উঠে। আমরা দুজন ছুটে গিয়ে দেখি ঝুলে আছে।
কুমারখালী থানার ওসি কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, ‘ খবর পেয়ে কলেজের তৃতীয় তলা থেকে অফিস সহায়কের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’