স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি ও সংযোগ স্থাপনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে চারটি পরিবারের চলাচলের একমাত্র পথ বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় এক বছর ধরে পথটি বন্ধ থাকায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ অন্তত ১৫ সদস্যকে প্রতিদিন হাঁটুপানি ও কাদা মাড়িয়ে বাড়ির বাইরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের বাকসাডাঙ্গী গ্রামে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিদ্যুতের লাইন বসানো নিয়ে বিরোধের পর প্রতিপক্ষ তাদের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উভয় পক্ষের শুনানি ও মুচলেকা হলেও এখন পর্যন্ত বেড়া অপসারণ করা হয়নি। উল্টো মামলা, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগও করেছেন তারা।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাকসাডাঙ্গী গ্রামের তমছেল মন্ডলের বাড়ির ঘরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন ও খুঁটি স্থাপনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে তার পরিবারের বিরোধের সূত্রপাত হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘরের ওপর দিয়ে তার না নিয়ে রাস্তার পাশ দিয়ে সংযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ।
এ নিয়ে প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তমছেল মন্ডলের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধ আরও বাড়ে। পরে তাদের বাড়ির একমাত্র সাধারণ প্রবেশপথে বাঁশের বেড়া দিয়ে পুরো পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
পথটি বন্ধ থাকায় বাড়ি থেকে বের হওয়ার জন্য চার পরিবারকে পেছনের নিচু জমির ওপর দিয়ে যেতে হচ্ছে। বর্ষার পানিতে ওই জমি হাঁটুপানিতে তলিয়ে থাকায় প্রতিদিনই পানি-কাদা মাড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের।
ভুক্তভোগী সাগর শেখ বলেন, আমাদের বাড়ির পথ বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা বন্দী জীবনযাপন করছি। প্রতিদিন হাঁটুপানি ভেঙে বাইরে যেতে হয়। এর মধ্যে আমাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি।
তিনি অভিযোগ করেন, ভ্যান চালিয়ে সংসার চালানোর পরও তাকে মারধর করে কিস্তির টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী সুজন মন্ডল জানান, চলাচলের পথ বন্ধের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এহসানুল হক শিপন উভয় পক্ষকে দুই দফা শুনানিতে ডাকেন।
তার দাবি, শুনানিতে অভিযুক্ত ইসরাফিল ও ইমরান দ্রুত সময়ের মধ্যে বেড়া অপসারণের শর্তে লিখিত মুচলেকা দেন। কিন্তু এরপরও বেড়া সরানো হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে লিখিত অঙ্গীকার দেওয়ার পরও পথটি বন্ধ রেখে তাদের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আক্তার বলেন, আমাদের জায়গায় আমরা বেড়া দিয়েছি। এটা প্রশাসনের কোনো ক্ষমতা নেই যে বেড়া সরিয়ে দেবে। এখানে আসতে হলে আমাদের অনুমতি নিয়ে আসতে হবে। আমরা বেড়া সরাব না কারও ক্ষমতা থাকলে সরিয়ে দেখাক।
অভিযুক্ত মুক্তি বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ায় আমরা বেড়া দিয়েছি। তবে ঘরের ওপর দিয়ে বিদ্যুতের তার টাঙানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।
নারুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম চুন্নু বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। একটি বিদ্যুতের খুঁটি নিয়ে বিরোধের কারণে চারটি পরিবারকে এভাবে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং তাদের হাঁটুপানি দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বেড়াটি অপসারণ করা।
বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মুরাদ ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানি না। আমি নতুন এসেছি। মুচলেকা দেওয়ার পরও যদি বেড়া অপসারণ করা না হয়ে থাকে, তাহলে সেটি আইন অমান্যের বিষয়। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং তাদের যাতায়াত স্বাভাবিক করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।