শিরোনাম
রাজবাড়ীতে ডিবির অভিযানে ১৫০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ বাবা-ছেলে গ্রেফতার গোয়ালন্দে সাবেক বিএনপি নেতাদের স্বাক্ষরে বহিষ্কারাদেশ, প্রশ্নের মুখে সাবেক নেতারা গোয়ালন্দে ১২৮ পিস ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার দৌলতদিয়া যৌনপল্লিতে ডিবির অভিযান: ১০০ লিটার চোলাই মদসহ গ্রেফতার ১ গোয়ালন্দে স্বপ্ন কুড়ির উদ্যোগে সেরা তিন পুত্রবধূকে সম্মাননা গোয়ালন্দ ভূমি অফিসের চুরির মালামাল উদ্ধার না হওয়ায় ব্যাহত ভূমি সেবা গোয়ালন্দে সন্ত্রাসী হামলায় মুমূর্ষু যুবক, আসামি গ্রেপ্তার ও নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন দৌলতদিয়ায় বাস ডুবির ঘটনায় চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার গ্রেপ্তার  বালিয়াকান্দিতে ডিএনসির অভিযানে গাঁজাসহ আটক ৬০ ঊর্ধ্ব বৃদ্ধ, মোবাইল কোর্টে জেল ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা পরিকল্পনা ছাড়াই গোয়ালন্দ আড়ৎপট্টিতে ড্রেন নির্মাণ, ভারি যান চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

প্রতারণা করে সমবায় সমিতির নামে চেক সংগ্রহ, পরে সেই চেক দিয়েই মামলা

স্টাফ রিপোর্টার / ২৮৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২২

0Shares

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি,

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে সমবায় সমিতি থেকে ঋণ পেতে অলিখিত চেক জামানত দিয়ে এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে কিস্তি চলাকালীন উল্টো চেক ডিজঅনার মামলার আসামী হয়েছেন ভূক্তভোগী মো: ইদ্রিস আলী। রবিউল ইসলাম রিটু নামের আরেক ব্যক্তিকে সমবায় সমিতির মালিকানা দেয়ার প্রলোভনে চেক হাতিয়ে নিয়ে চেক ডিজঅনার মামলা দেয়ার অভিযোগ রয়েছে ওই সমবায় সমিতির সভাপতির বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, ভূক্তভোগী ইদ্রিস আলী ২০১৮ সালে গ্রামীণ আলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণ পেতে সমবায় সমিতির দেয়া শর্তানুযায়ী তাকে অলিখিত চেক জামানত দিতে বাধ্য করেন ওই সমবায় সমিতির সভাপতি মো: আমিনুর ইসলাম। ইদ্রিস আলী যথারীতি কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে থাকাবস্থায় সমিতির সভাপতি আমিনুর ইসলাম বাকিতে ইদ্রিস আলীর ডেইরি ফার্ম থেকে ১১ টি গরু ক্রয় করেন। এরপর আমিনুর ইসলাম গরু ক্রয়ের টাকা পরিশোধ না করলে ইদ্রিস আলী কিস্তি দেওয়া বন্ধ করে তার গরু বিক্রয় বাবদ পাওনা টাকা চাইলে আমিনুর ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে সমবায় সমিতি থেকে ইদ্রিস আলীর নেওয়া ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে দেয়া অলিখিত চেকে মনগড়া টাকার পরিমাণ লিখে উল্টো ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনার মামলা দেন।

এছাড়া, সমবায় সমিতির মালিক হওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রবিউল ইসলাম রিটু নামের এক ব্যক্তির নিকট হতে জামানত বাবদ নগদ ৫ লক্ষ টাকা ও অলিখিত চেক গ্রহণ করে সমবায় সমিতির মালিকানা প্রদান না করে উল্টো ২০ লক্ষ টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন সমিতির সভাপতি আমিনুর ইসলাম। ভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে চেক সংগ্রহ করে অপর একটি মামলায় নিজেকে পোল্ট্রী এন্ড ডেইরি মেডিসিন ব্যবসায়ী দাবি করে আমজাদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির নিকট বাকি বিক্রয়ের অজুহাত দেখিয়ে তার বিরুদ্ধেও ১৬ লাখ ১০ হাজার টাকার চেক ডিজঅনার মামলা করেন আমিনুর ইসলাম। একইভাবে নিরঞ্জন চন্দ্র বাড়ই নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা ধার দিয়েছেন উল্লেখ করে চেক জালিয়াতির মামলা করেন আমিনুর ইসলাম।

এভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভিন্ন ভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে অলিখিত চেক নিয়ে প্রতারণামূলকভাবে চেক ডিজঅনার মামলা দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তিকে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে আমিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রায় কোটি টাকা ধার দিয়েছেন উল্লেখ করে একের পর এক মামলা করলেও তার এসব টাকার উৎস জানতে চাইলে কোন সদুত্তর দিতে পারেননি আমিনুর ইসলাম।

নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে স্হানীয়রা জানান, আমিনুর ইসলামের বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলার সাহস করেনা। তার বিরুদ্ধে কথা বললেই সে বিভিন্ন মামলা দিয়ে মানুষজনকে হয়রানি করে। তবে কখনোই তার পোল্ট্রী এন্ড ডেইরি মেডিসিনের ব্যবসা ছিলনা। সমিতির কার্যালয়ে অল্প কিছু ওষুধ উঠিয়ে নামমাত্র ব্যবসা করে মানুষকে হয়রানি করে। শুনেছি সে অনেকের নামে চেকের মামলা দিয়েছে। যে যে এত টাকা মানুষকে ধার দিয়েছে বলে, এত টাকা সে কোথায় পেল। সে মানুষকে প্রায় কোটি টাকা ধার দিয়েছে এটা বললে পাগলেও বিশ্বাস করবে না।

ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম রিটু বলেন, আমিনুর আমাকে সমিতির শেয়ার দেয়ার নাম করে জামানত বাবদ আমার কাছ থেকে নগদ টাকা ও চেক নিয়েছে। সেই চেক দিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে। আমার মত আরো অনেকের বিরুদ্ধে সে মামলা করেছে। তার কারণে অনেকে নি:স্ব হয়ে গেছে। মোটকথা সে সমবায় সমিতির ব্যবসার আড়ালে মানুষের কাছ থেকে চেক নিয়ে তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে। এভাবে প্রতারণা করাই এখন তার ব্যবসা।

আরেক ভূক্তভোগী ইদ্রিস আলী বলেন, আমিনুরের সমিতি থেকে আমি ঋণ নিয়েছিলাম, তখন আমার কাছ থেকে জামানত বাবদ ব্ল্যাঙ্ক চেক নিয়েছিল। সেই চেক দিয়ে আমার নামে মিথ্যা চেক জালিয়াতির মামলা দিয়েছে। শুধু আমি না, আমার মত আরো অনেকের বিরুদ্ধেই সে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমিনুর ইসলাম বলেন, আমি তাদের কাছে ব্যবসায়ীক টাকা পাই। এ বিষয়ে যথেষ্ট স্বাক্ষী প্রমাণ আছে, এলাকার মানুষজনও জানে। উল্টো তারাই আমার নামে মিথ্যা মামলা করেছে। তাদের মামলার স্বাক্ষীরা আমাকে এফিডেভিট করে দিয়েছে যে তারা মিথ্যা মামলা করেছে। আমার ব্যবসা ছিল তার ক্যাশমোমো সহ অন্যান্য ডকুমেন্ট আছে। তাদের কছে টাকা না পেলে কি তারা এমনি এমনি কাগজপত্রে স্বাক্ষর দিয়েছে?

বিষয়টি নিয়ে সিংগাইর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো: আরব আলী বলেন, ওই সমিতিটি মানকগঞ্জ সদর উপজেলা সমবায় অফিস থেকে রেজিস্ট্রেশনকৃত। তাই ওই সমিতি সম্পর্কে আমি তেমন কিছু জানিনা। তবে ঋণ দেয়ার সময় ব্ল্যাঙ্ক চেক নেয়ার কোন বিধান নেই।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg