স্টাফ রিপোর্টারঃ
বাংলাদেশের ব্যস্ততম ফেরি ঘাটের মধ্যে একটি রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ঘাট ও মানিকগঞ্জ জেলার পাটুরিয়া ঘাট। সকাল থেকেই ঘাটে ঢাকামুখী যানবাহন সহ অন্যান্য জেলা মুখী যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়াল দেখা গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ওই নৌপথে চলাচলকারি অনেক ফেরি ঘন ঘন বিকল হয়ে পড়ে। পানির গভীরতা কমে নৌ চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে ডুবোচর ও নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। দৌলতদিয়া প্রান্তে ৭ টি ফেরিঘাটের মধ্যে ৩ টি ঘাট বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গাড়ির চাপ বেড়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া উভয় ঘাটে যানজট লেগেই রয়েছে।
সোমবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩ টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিপারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। এতে ফেরিঘাটের জিরোপয়েন্ট থেকে খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তায় দীর্ঘ যানবাহনের যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের বহরে ছোট-বড় মিলে মোট ২০টি ফেরি থাকলেও এর মধ্যে ৪ টি ফেরি অন্য ঘাটে নেয়ে হয়েছে। এছাড়াও প্রতিটি রো রো (বড়) ফেরি চলাচলের জন্য কমপক্ষে ১০ ফিট পানির গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু নৌ-চ্যানেলের বিভিন্ন পয়েন্টে ডুবোচরের পাশাপাশি নাব্যতা সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া উভয় ঘাটের বেসিন চ্যানেলে এখন নাব্যতা সংকট সবচেয়ে বেশি। পানির গভীরতা না থাকায় বড় ফেরিগুলো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে চলাচল করছে।
এদিকে, দৌলতদিয়ায় মোট সাতটি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে ১, ২, ও ৬ নম্বর ঘাট বন্ধ রয়েছে। চালু থাকা অপর চারটি ঘাটের মধ্যে শুধুমাত্র ৩ , ৫ ও ৭ নম্বর ঘাটে রয়েছে তিন পকেটবিশিষ্ট পন্টুন। চলাচলকারি বড় ফেরিগুলো শুধুমাত্র ওই তিনটি ঘাটেই ভিরতে পারছে। ছোট ফেরিগুলো ভিরছে এক পকেট বিশিষ্ট ৪ নম্বর ঘাট পন্টুনে। ৭ টি ঘাটের মধ্যে তিনটি ঘাট বন্ধ থাকায় নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তে ঘাটসংকট সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নৌপথে ফেরিতে ভারি যানবাহন পারাপার বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ বেড়েছে দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌপথে। ফলে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যানবাহনের তীব্র যানজট লেগেই রয়েছে।
ঘাটসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে প্রয়োজনীয় ঘাট সংকট, ঘন ঘন ফেরি বিকল ও নাব্যতা সংকটের কারণে নৌপথে স্বাভাবিক ফেরিপারাপার ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সামান্য এই নৌপথ নদীপার হতে এসে গাড়িগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘাটেই পড়ে থাকতে হচ্ছে। ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় বাসের যাত্রী, চালক, মূমুর্ষ রোগী, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কার্যালয় (বিআইডাব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল করছে ১৬ টি, ঘাট চালু আছে ৪ টি, আমরা চেষ্টা করছি এই দীর্ঘ যানবাহনের সারি ঘাট এলাকায় যেন না থাকে। গাড়িগুলো দ্রুত পারাপার করতে আমরা সর্বক্ষনিক চেষ্টা করছি।