রাজু আহমেদ, (স্টাফ রিপোর্টার) রাজবাড়ী সদর উপজেলার পাচুরিয়া ইউনিয়নের খোলাবাড়ি গ্রামে অবস্থিত ডিকে সাহার ২০০ বছরের পুরনো দুর্গা মন্দির আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। জমিদার আমলের নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি অযত্ন-অবহেলায় হারাতে বসেছে এর গৌরবময় অতীত।প্রত্নতাত্ত্বিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আনুমানিক ১৮২৪ সালে রাজবাড়ী জেলাজুড়ে প্রভাবশালী জমিদার ডিকে সাহা দুর্গা পূজার উদ্দেশ্যে মন্দিরটি নির্মাণ করেন। তার পরিবারের বর্তমান সপ্তম প্রজন্ম—নারায়ণ সাহা (নারু বাবু) ও তার ভাই—আজও মন্দিরটির রক্ষণাবেক্ষণ করছেন। টানা ২০১ বছর ধরে এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।কিন্তু বর্তমানে মন্দিরটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। ছাদসহ বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, বর্ষার সময় ভিতরে পানি পড়ে, এবং যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এলাকাবাসী ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে মন্দিরটি একটি প্রাচীন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তা আজও অবহেলিত রয়ে গেছে।জমিদার পরিবারের বর্তমান সদস্য নারায়ণ সাহা বলেন,“মন্দিরটির পূর্ণাঙ্গ সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু আর্থিকভাবে আমরা খুব একটা স্বচ্ছল নই। সরকার চাইলে আমরা জমিসহ মন্দিরটি লিখে দিতে প্রস্তুত। শুধু চাই, এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি যেন সংরক্ষিত হয়।”তিনি আরও জানান,“মন্দির কেন্দ্রিক জমিদার বাড়ির অংশ, একটি প্রাচীন পুকুর ও চারটি ঘাট এখনও বিদ্যমান। আমরাই দুই ভাই এখন এখানে বসবাস করছি। রাজবাড়ীর ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারিভাবে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানাই।”এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ইউএনও মারিয়া হক বলেন,“পাচুরিয়ায় প্রাচীন দুর্গা মন্দিরের কথা শুনেছি। কেউ যদি আমাদের সাথে যোগাযোগ করে, তাহলে সংরক্ষণ ও সংস্কারের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।”এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।