শিরোনাম
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে পণ্যবাহী ট্রাককে ঘিরে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি ও হয়রানির অভিযোগ অপপ্রচার ও শিষ্টাচারবহির্ভূত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রাজবাড়ীতে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ রাজবাড়ীতে মাদার অব ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া পরিষদের ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও নাশকতার পরিকল্পনার প্রতিবাদে গোয়ালন্দে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল গোয়ালন্দে বসতঘর থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার মাদক ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছেন এসিল্যান্ড মুনতাসীর দৌলতদিয়ার পুড়াভিটায় মাদকবিরোধী অভিযানে হামলা, হাতকড়াসহ আটক মাদক ব্যবসায়ী ছিনতাই রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা কালুখালীতে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ভেজাল তিল তৈরির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা

দাম কমার পরও চুরির শঙ্কায় পেঁয়াজ চাষীরা, লাঠি হাতে দিন-রাত পাহারা

ষ্টাফ রিপোর্টার | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ২৫১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৩

0Shares

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ১৮ ডিসেম্বর

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : হঠাৎ ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণার পর দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়। তবে পেঁয়াজের দাম বাড়ার প্রতিবাদে দেশের মানুষ পেঁয়াজ কেনা কমিয়ে দিলে দাম কমাতে বাধ্য হয় ব্যবসায়ীরা। ফলে সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৬০-৭০ টাকা কমে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে ভোক্তাদের মাঝে।

পেঁয়াজের দাম কমে ক্রেতাদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও আতঙ্ক কমেনি কৃষকদের। ক্ষেত থেকে চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দিন পার করছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের পেঁয়াজ চাষীরা। এরই মধ্যে কয়েক জায়গায় ক্ষেত থেকে পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটেছে। ফলে চুরি ঠেকাতে পেঁয়াজের ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা।

জানা গেছে, ভালো দামের আশায় জমিতে আগাম জাতের পেঁয়াজের বীজ রোপণ করেছিলেন উপজেলার অনেক কৃষক। এখন পেঁয়াজের আকার বড় হয়ে উঠেছে। আর ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়ে উঠবে। তবে বর্তমানে পেঁয়াজের বাজার ভালো হওয়ায় এরই মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় ক্ষেতে হানা দিতে শুরু করেছে চোরের দল। তাই চুরি ঠেকাতে দিনে এবং রাত জেগে পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা।

বিশেষ করে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বাহিরচর গ্রামের পেঁয়াজচাষীরা তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে পালাক্রমে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন। ক্ষেতের পাশে ছোট ছোট অস্থায়ী টং ঘরের মতো ঝুপড়ি নির্মাণ করেছেন। সকালের সূর্য ওঠার আগ পর্যন্ত পেঁয়াজ ক্ষেতের সেই ঝুপড়িতেই নির্ঘুম রাত কাটান তারা।

নিজের পেঁয়াজ ক্ষেত পাহারা দেওয়া বাহিরচর গ্রামের কৃষক মঙ্গল মনি দাস বলেন, আমি এ বছর ৪২ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। কয়েকদিন আগে আমার পাশের ক্ষেত থেকে এক কৃষকের অনেক পেঁয়াজ চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা। এরপর থেকেই আমরা রাত জেগে ক্ষেত পাহারা দিচ্ছি। এখন পেঁয়াজের আকার বড় হলেও তোলার উপযোগী হয়নি। আর ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে পেঁয়াজ তোলার উপযোগী হয়ে উঠবে। কিন্তু চোরের ভয়ে এখনই আমাদের পেঁয়াজ তুলল ফেলতে হচ্ছে। সঠিক সময়ে তুলতে পারলে আমার এই জমিতে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মন পেয়াজ হতো কিন্তু চুরির ভয়ে আগে ওঠানোর কারনে ৩৫ থেকে ৪০ মন পেঁয়াজ হবে। কৃষক মঙ্গল মনি দাসের মতো একই কথা জানিয়েছেন বাহিরচরের আরো অনেক পেঁয়াজচাষী।

একই এলাকার কৃষক মো. হারুনুর রশিদ বলেন, আমি এবার মোট ৪০ শতাংশ জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছি। আমার ৪ শতাংশ একটি জমির ১ শতাংশ পেঁয়াজ চুরি হয়েছে। চোরের ভয়ে দ্রুত পেঁয়াজ তুলে ফেলতে হচ্ছে। পেঁয়াজ আরো কিছুদিন পরে তুলতে পারলে ভালো হতো। কিছুদিন আগে রাতে আমার পাশের জমি থেকে পেঁয়াজ চুরি করে নিয়ে গেছে চোরেরা।

তিনি আরও বলেন, চুরির বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যকে জানানো হলে তিনি সবাইকে পাহারা দিতে বলছেন।

কৃষক লাল খান এর ছেলে আ. মালেক বলেন, আমরা ৫ বিঘা জমিতে পেঁয়াজের আবাদ করেছি। আমাদের প্রায় ৪-৫ শতাংশ জমির পেঁয়াজ চুরি হয়ে গেছে। চুরি হওয়ার পরে আমরা রাত-দিন পাহারা দিচ্ছি। চোরের ভয়ে আমাদের পেঁয়াজ উঠিয়ে ফেলতে হচ্ছে। পেঁয়াজ তোলার উপযোগী না হলেও চুরির ভয়ে অপরিপক্ক অবস্থায় পেঁয়াজ তুলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছি।

বাহিরচর গ্রামের মামুন রহমান জানান, পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় রাতের আঁধারে এমনকি দিনদুপুরেও ক্ষেতে চোরের ভয়ে শঙ্কিত পেঁয়াজচাষীরা। পেঁয়াজের দাম বাড়লেই পেঁয়াজ চুরির ঘটনা ঘটে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে গাছের গোড়ায় পেঁয়াজগুলো পরিপক্কতা পাবে। কিন্তু চুরির ভয়ে অনেক কৃষক অপরিপক্ক পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছেন।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড সদস্য আ. কুদ্দুস আলী বেপারী পেঁয়াজ চুরির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি পেঁয়াজ চুরির ঘটনা জানার সাথে সাথেই কৃষকদের যার যার ক্ষেত পাহারা দিতে বলি। পাহারা চলমান রয়েছে। এখন আর চুরি হচ্ছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান বলেন, এ অঞ্চলের জমি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। এখানে পেঁয়াজের ফলন ভালো হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ৮৫০ হেক্টর জমিতে কন্দ পেঁয়াজ চাষ করা হয়েছে। এখানকার কৃষকরা পেঁয়াজ চাষে লাভবান হবেন।

এ বিষয়ে হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ্ নুর এ আলম জানান, ক্ষেতে পেঁয়াজ চুরি ঠেকাতে সম্মিলিত প্রতিরোধের উদ্যোগ নেয়া হবে এবং কেউ অভিযোগ দিলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg