স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মহাসড়কে খোলা ট্রাকে ভেজা বালু ও ত্রিপলবিহীন অবস্থায় বালু পরিবহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় ছয়টি বালুবাহী ড্রাম ট্রাক জব্দ করা হয়। পরে মুচলেকা নিয়ে এবং মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে গোয়ালন্দ বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ অভিযান পরিচালনা করেন গোয়ালন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকার বিভিন্ন বালুর চাতাল থেকে ত্রিপল ছাড়া এবং ভেজা বালু ড্রাম ট্রাকে পরিবহন করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এভাবে বালু পরিবহনের সময় সড়কের ওপর বালু পড়ে ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বালুর চাতাল ব্যবসায়ীদের বারবার সতর্ক করা হলেও অনেকেই নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে খোলা ও ভেজা বালু পরিবহন করে আসছেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্থানীয়দের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অভিযানকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, খোলা অবস্থায় মহাসড়কে ভেজা ও ত্রিপল ছাড়া বালু পরিবহনের ফলে সড়কে বালু পড়ে ধুলাবালির সৃষ্টি হয়। এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে খোলা ট্রাকে বালু-মাটি পরিবহন কোনোভাবেই করা যাবে না।
তিনি আরও বলেন, সড়কে বালু-মাটি পড়ে যাতে পরিবেশ ও জননিরাপত্তার সমস্যা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে। নিয়ম অমান্য করে কেউ বালু বা মাটি পরিবহন করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অভিযানে জব্দ করা ছয়টি ট্রাকের মালিক বা সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয় এবং মোট ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পরে নির্ধারিত শর্ত মেনে চলার অঙ্গীকারের পর ট্রাকগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুচলেকায় চাতাল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে ভেজা বালু বা মাটি পরিবহন না করা, যথাযথ মানের ত্রিপল ছাড়া বালু-মাটি বহন না করা, লাইসেন্সবিহীন চালক দিয়ে গাড়ি না চালানো, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া কোনো পরিবহন ব্যবহার না করা এবং হেলপার দিয়ে গাড়ি না চালানোর অঙ্গীকার করা হয়। একই সঙ্গে প্রচলিত আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার কথাও উল্লেখ করা হয়।
স্থানীয় সাধারণ মানুষ জানান, মহাসড়কে খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের কারণে প্রায়ই সড়কে বালু পড়ে থাকে। এতে ধুলাবালির পাশাপাশি মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি তৈরি হয়। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানে দৌলতদিয়া ঘাটের বালুর চাতাল ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।