স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে সিভিল সার্জন চিকিৎসাসেবার মান ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগ (আউটডোর), পুরুষ ও মহিলা ওয়ার্ড, রান্নাঘরসহ হাসপাতালের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে খোঁজ নেন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে অবহিত হয়ে তিনি সেগুলো সমাধানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানান।
পরিদর্শন শেষে জেলা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ বলেন, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আমরা নিয়মিত পরিদর্শন করি। আমার কাছে মনে হয়েছে, গোয়ালন্দের চিকিৎসাসেবা আগের তুলনায় অনেকটাই উন্নত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে আমাদের অতিরিক্ত সহকারী পরিচালক এসেছিলেন। তিনিও হাসপাতালটি পরিদর্শন করে গেছেন।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়ে রোগীদের কোনো অভিযোগ নেই। তবে একটি অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ওপরের ছাদের প্লাস্টার খুলে পড়ে। বিষয়টি এলজিইডির (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর) আওতাধীন। এ বিষয়ে এলজিইডির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) মো. রোমেল হাসানসহ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মারুফ হাসান সিভিল সার্জনের পরিদর্শনকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এ ধরনের নিয়মিত ও তদারকি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তিনি জানান, গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্প্রতি কয়েকটি নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ইসিজি (ECG) সেবা চালু, রয়েছে। পাশাপাশি ডায়াবেটিস পরীক্ষাসহ এক্স-রে ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্যাথলজি পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুবিধা হাসপাতালেই পাওয়া যাচ্ছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, এসব সেবা চালুর ফলে স্থানীয় রোগীদের চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জেলা সিভিল সার্জন।