স্টাফ রিপোর্টার, রাজবাড়ী: রাজবাড়ীতে বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে একটি সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ চক্রের বিরুদ্ধে। চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণকাজে বাধা, যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ, হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন রাজবাড়ী পৌরসভার অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী মো. আজিবর রহমান। তিনি ও তাঁর স্ত্রী হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানান।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা শহরের বড়পুল এলাকার একটি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আজিবর রহমান। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজিবর রহমান বলেন, ২০২১ সালে শ্রীপুর গ্রামে নিজের জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন তিনি। নির্মাণকাজ শুরুর পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় চক্রটি যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতে থাকে।
আজিবর রহমান অভিযোগ করেন, গত ৩১ জুলাই সকালে যাতায়াতের রাস্তা পরিষ্কার করতে গেলে চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী গুরুতর আহত হন। এ সময় তাঁদের প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আজিবর রহমান। পরবর্তীতে তিনি আদালতে মামলা দায়ের করেন। তাঁর দাবি, মামলা করার পর অভিযুক্তরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ার পাশাপাশি গত শনিবার অভিযুক্তরা দ্বিতীয় দফায় তাঁদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁরা বাড়িতে ফেরেন।
সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আজিবর রহমান বলেন, আমরা এখন চরম প্রাণভয়ে আছি। ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না। সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।
এ সময় তিনি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আকুল আবেদন করেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।