স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে পুকুরে গোসল করতে এসে ধরা পড়েছে চার শিক্ষার্থী। পরে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির আবেদন অনুমোদনের কপি ব্যবহার করে বিদ্যালয় ত্যাগের অভিযোগও উঠে আসে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর প্রায় ১টা ৪০ মিনিটে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বৃক্ষ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে অফিসে ফেরার পথে উপজেলা পরিষদের পূর্ব পাশের পুকুরঘাটে স্কুল ইউনিফর্ম পরিহিত চার শিক্ষার্থীকে দেখতে পান। সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয় এবং টিফিনের সময় পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে বলে জানায়।
পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, ওই শিক্ষার্থীদের কাউকেই বিদ্যালয় থেকে ছুটি দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নেওয়া হলে তারা ভিন্ন তথ্য দেয়। একপর্যায়ে তারা জানায়, একজনের খালাতো বোনের বিয়েতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্কুল থেকে বের হয়ে পুকুরে গোসল করছিল।
পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয় এবং বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। বিকেলে শিক্ষার্থীরা অভিভাবকদের সঙ্গে উপস্থিত হলে তারা স্বীকার করে যে বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির আবেদন অনুমোদনের কপি তৈরি করে স্কুল ত্যাগ করেছিল।
অভিভাবকরা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলে প্রশাসনের কাছে অঙ্গীকার করেন। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের শেষবারের মতো সতর্ক করা হয় এবং আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের উপস্থিতিতে ২০০টি করে গাছের চারা রোপণের শর্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদের ওই পুকুরে এর আগেও সাঁতার কাটতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে সেখানে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে। তারপরও ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের পুকুরে নামার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন জানান, স্কুল ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।