স্টাফ রিপোর্টারঃ যশোরের বেনাপোল থেকে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুরগামী একটি পণ্যবাহী ট্রাককে কেন্দ্র করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
ট্রাকচালকের দাবি, দৌলতদিয়ায় নির্ধারিত ওজন অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে ফেরি পারাপার করার পর পাটুরিয়া ঘাটে গিয়ে পুনরায় ওজন দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় এবং চালানের কাগজপত্র আটকে রেখে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে ফেলা হয়। তবে বিআইডব্লিউটিসি কর্তৃপক্ষ অভিযোগটি অস্বীকার করেছে।
অভিযোগকারী ট্রাকটির (ঢাকা মেট্রো ট-২২-৯৫৮৩) চালক সাকিবুল হাসান জানান, গত রোববার (২২ জুন) বেনাপোল বন্দর থেকে প্রায় ৩৫ টন মার্বেল টাইলস বোঝাই করে তিনি হেমায়েতপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সোমবার সকালে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন ওজন স্কেলে ট্রাকটির ওজন ৩৫ টন নির্ধারিত হয়। সে অনুযায়ী সরকারি ফি পরিশোধ করে ফেরি পারাপারের বুকিং সম্পন্ন করে তিনি দৌলতদিয়া ঘাট থেকে পাটুরিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেন।
চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, পাটুরিয়া ঘাটে পৌঁছে তিনি কিছু সময়ের জন্য ব্যক্তিগত কাজে বাড়ি গেলে তাঁর সহকারী শরিফ হোসেন ট্রাকের কাছে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিআইডব্লিউটিসির একজন কর্মকর্তা পরিচয়ে চালানপত্র নিয়ে যান এবং ট্রাকে অতিরিক্ত মালামাল রয়েছে দাবি করে প্রথমে ৪ হাজার ৫০০ টাকা, পরে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করেন।
সাকিবুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, বিকেলে ফিরে এসে চালানপত্র আটকে রাখার কারণ জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা ও বিভিন্ন তদবিরের পর রাত প্রায় ১১টার দিকে ট্রাকটি ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা পরিষদের ওজন স্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কম্পিউটার অপারেটর মুহিদুল ইসলাম রাজু বলেন, সোমবার সকালে ট্রাকটির ওজন ৩৫ টন পাওয়া যায় এবং সেই হিসাবেই সরকারি ফি আদায় করে বুকিং দেওয়া হয়। সাধারণত ওজন নির্ধারণ ও বুকিং সম্পন্ন হওয়ার পর পুনরায় ওজনের প্রয়োজন পড়ে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, বিআইডব্লিউটিসি পাটুরিয়া ঘাট কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক জামাল উদ্দিন অভিযোগে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সোমবার রাতে তিনি ফেরির রোস্টার সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত ছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে সহকারী ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম অবগত আছেন।
এ বিষয়ে সহকারী ব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ট্রাকটিতে অতিরিক্ত মালামাল বহনের সন্দেহ থেকে চালানপত্র পরীক্ষা করা হয়। পরবর্তীতে ওজন করলে ট্রাকটির ওজন ৪১ টন পাওয়া যায়। যেহেতু গোয়ালন্দে ৩৫ টনের ভাড়া পরিশোধ করা হয়েছিল, তাই অতিরিক্ত ৬ টনের ভাড়া পরিশোধের জন্য চালককে জানানো হয়। তবে অতিরিক্ত অর্থ দাবি বা হয়রানির অভিযোগ তিনি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন।
ঘটনাটি নিয়ে পরিবহনসংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। একই ট্রাকের ওজন দুই স্থানে ভিন্ন দেখানোর কারণ এবং চালককে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।