স্টাফ রিপোর্টারঃ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া-ফরিদপুর মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা একটি ভাঙারির দোকান থেকে ভূমি অফিসের চোরাইকৃত সরকারি মালামাল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হালিম নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) দুপুরে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল উদ্ধার করে। স্থানীয়দের মতে, দোকানটি দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী খানের ছোট ছেলে অনিক খানের ভাঙারির দোকান হিসেবে পরিচিত।
দৌলতদিয়া ভূমি অফিসের অফিস সহায়ক মো. জিলাল ও রাজিব জানান, শনিবার পর্যন্ত অফিসের সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। তবে রোববার সকালে অফিসে এসে তারা বিদ্যুতের তার কাটা, দরজা ভাঙা এবং জানালার গ্রিল কাটা দেখতে পান। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে এসে অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে উদ্ধার হওয়া মালামালগুলো ভূমি অফিসের সম্পদ বলে শনাক্ত করা হয়।
পুলিশ জানায়, চুরির খবর পাওয়ার পরপরই বিভিন্ন ভাঙারির দোকানে নজরদারি শুরু করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দোকানে অভিযান চালিয়ে চোরাইকৃত মালামাল উদ্ধার করা হয়। এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলার ব্যাপারীপাড়া এলাকার এসপি আহাদের বাসা থেকে চুরি হওয়া একটি মোটরও উদ্ধার করা হয়।
অভিযানকালে দোকানটিতে বড় বড় ড্যাগ, মোটা পাইপসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল পাওয়া যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাইকৃত বিভিন্ন পণ্য নিয়মিতভাবে এই দোকানে কেনাবেচা করা হয়। এছাড়া দোকানের একটি কক্ষে আইয়ুব আলী খান এবং তার ছেলে আরিফ খান ও অনিক খানের ছবি দেখা যায়। সেখানে ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জামও পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দোকানটিতে মোটর, ফ্যান, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, দরজা-জানালার গ্রিল, টিউবওয়েল, যানবাহনের যন্ত্রাংশ, সাইকেল ও রিকশার চাকা, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার দ্রব্য, লোহার পাত, পাইপ, রডসহ বিপুল পরিমাণ লৌহজাত সামগ্রী পাওয়া যায়। এছাড়া গ্যাস সিলিন্ডার, সড়কের দিকনির্দেশনা সংবলিত লোহার খুঁটি, রান্নার বড় ড্যাগসহ বিভিন্ন সামগ্রীও জব্দ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্ত ছিচকে চোর, বখাটে যুবক, মাদকাসক্ত নারী এবং কিশোরদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি অপরাধী চক্র এসব চোরাই মালামাল সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে এসব মালামাল বিভিন্ন স্থানে পাচার হয়ে আসছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, একটি ভাঙারির দোকানে সাধারণত পুরোনো টিন, প্লাস্টিক কিংবা বাতিল জিনিসপত্র থাকার কথা। কিন্তু এখানে মোটর, পাইপ, ফ্যান, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরকারি মালামাল পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, ভূমি অফিস থেকে হারিয়ে যাওয়া ১১টি মালামালের মধ্যে ৯টি উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি দুটি, বিশেষ করে কম্পিউটার দ্রুত উদ্ধার করে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় দোকান সিলগালা করা এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এ ঘটনায় গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।