গোয়ালন্দে চাঁদার দাবিতে যুবককে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ও তার ছেলেসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া এলাকার খুসি শেখের ছেলে হুমাই শেখ, দৌলতদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আইয়ুব আলী খান, তার ছেলে অনিক খান ও আরিফ খান এবং দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে বসবাসকারী তুহিনকে।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া শাহাদাত মেম্বারপাড়া এলাকার মৃত করিম পালের ছেলে ইয়াকুব পাল (৩০) সম্প্রতি দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে একটি বাড়ি ক্রয় করেন। বাড়ি কেনার পর থেকেই একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় অভিযুক্তরা তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী শহীদ পাল জানান, গত ১৮ মে সন্ধ্যায় ইয়াকুব পাল দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর ভেতরে একটি খাবারের দোকানে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে অভিযুক্তরা তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে হুমাই শেখ ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে কোপ দিলে আত্মরক্ষার জন্য হাত বাড়িয়ে দিলে তার বাম হাতের তর্জনী আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং অপর একটি আঙুল গুরুতরভাবে জখম হয়।
এ সময় আরিফ খান ধারালো বটি দিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে আরও আহত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে অনিক খান একটি ধারালো কুড়াল দিয়ে তার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে মাথার পেছনের অংশ ও কপালে গুরুতর জখম হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলার একপর্যায়ে অনিক খান ইয়াকুব পালের পকেটে থাকা নগদ ২০ হাজার ১৫০ টাকা এবং গলায় থাকা প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। অন্য অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকলে তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
গুরুতর আহত ইয়াকুব পালকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সাভারে অবস্থিত Enam Medical College Hospital-এ ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আইয়ুব আলী খানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।