শিরোনাম
রাজবাড়ীতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ প্রদান পাংশায় মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় মাদকাসক্ত ছেলেকে আটক, হত্যার অভিযোগ রাজবাড়ীর মাটিপাড়ায় বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত গোয়ালন্দে ময়লা ব্যবস্থাপনায় বেহাল দশা, ডাম্পিং পয়েন্ট থাকলেও মিলছে না সমাধান রাজবাড়ীতে জাতীয় গ্রীন মিশনের আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গোয়ালন্দে সার্বিক ফলাফলের হতাশার মাঝে ৫ শিক্ষার্থীর গোল্ডেন জিপিএ-৫ গোয়ালন্দে যুব দিবস উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা বালিয়াকান্দিতে টেবিল ফ্যানের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্কুলছাত্রের মৃত্যু রাত ৮টার মধ্যে শপিং মল-মার্কেট ও দোকান বন্ধের নির্দেশ পাংশা মডেল থানা বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ

দৌলতদিয়া টার্মিনালে নানা খাতে অর্থ আদায়, প্রশ্নের মুখে পরিবহন ব্যবস্থাপনা

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টারঃ পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট বাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার উদ্দেশ্যে শত শত বাস ছেড়ে যাচ্ছে। তবে যাত্রী পরিবহনের আগে বিভিন্ন খাতে বাসপ্রতি আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া ঘাট। ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় টার্মিনাল এলাকায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বাসগুলো টার্মিনাল থেকে ছাড়ার আগে ডিপার্চার, সিরিয়াল ও কাউন্টার চার্জ’সহ বিভিন্ন নামে অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব খাতে প্রতিটি বাসের কাছ থেকে মোট আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।

ঈদের যাত্রী নিতে আসা কয়েকজন বাসচালক ও সুপারভাইজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অতিরিক্ত এই ব্যয় শেষ পর্যন্ত পরিবহন পরিচালনার খরচ বাড়িয়ে দেয়। তাদের ভাষ্য, কাউন্টার চার্জ, সিরিয়াল ফি ও ডিপার্চার বাবদ অর্থ পরিশোধ না করলে যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনায় নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়।

বরিশালগামী একটি বাসের সুপারভাইজার বলেন, দৌলতদিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে বের হতে কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বললে সমস্যায় পড়তে হয়।

যশোর থেকে আসা এক চালক জানান, ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহনের জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে বাস আনা হলেও টার্মিনালে এসে নানা খাতে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। তার দাবি, কাউন্টার, সিরিয়াল ও ডিপার্চার বাবদ নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয়।

অন্যদিকে কয়েকজন পরিবহন শ্রমিক জানান, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় ঈদ মৌসুমে এসব খরচ আরও বেড়ে যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজবাড়ী জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি খোন্দকার মাহমুদুল হক জুয়েল বলেন, ডিপার্চার বাবদ যে অর্থ নেওয়া হয় তা শ্রমিক কল্যাণ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়।এ বিষয়ে পরিবহন মালিকদের কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি দাবি করেন।

ডিপার্চার বাবদ অর্থ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা এক কর্মী জানান, তিনি মালিক সমিতির নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ সংগ্রহ করেন। কেন এবং কী উদ্দেশ্যে এই অর্থ নেওয়া হয়, সে বিষয়ে সমিতিই বিস্তারিত বলতে পারবে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, এ ধরনের কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ এখনো প্রশাসনের কাছে আসেনি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পরিবহন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশের দাবি, ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে টার্মিনাল এলাকায় অর্থ আদায়ের বিষয়টি তদন্ত করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর দাবি, আদায়কৃত অর্থ শ্রমিক কল্যাণ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ব্যয় করা হয়। ফলে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg