স্টাফ রিপোর্টার”একসময় গ্রামে অবহেলিতভাবে পড়ে থাকা পাটকাঠি আজ রাজবাড়ীর অন্যতম অর্থকরী পণ্য হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। পানের বরজ, পার্টিকেল বোর্ড ও চারকোল কারখানায় এর ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। শুধু দেশেই নয়, পাটকাঠি ও এর ছাই এখন রপ্তানিযোগ্য পণ্য হিসেবে বিশ্ববাজারেও স্থান করে নিচ্ছে।
গত এক দশকে এই পণ্যটির বাজার ক্রমেই বেড়ে চলেছে। পাটকাঠির ছাই বর্তমানে শিল্পজাত রপ্তানি পণ্য হিসেবে মর্যাদা পাচ্ছে। এতে করে পাট চাষের প্রতি কৃষকদের আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনি তৈরি হয়েছে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ।
রাজবাড়ীর সদর উপজেলার খানখানাপুর এলাকার কৃষক কালাম মিয়া জানান, “আগে পাটকাঠি গ্রামে এলোমেলো পড়ে থাকত। গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার হতো। কিন্তু এখন এর বহুমুখী ব্যবহার বেড়েছে। ভালো দামও পাওয়া যাচ্ছে।”
জানা গেছে, এই পাটকাঠি বিশেষ ধরনের চুল্লিতে পুড়িয়ে তৈরি করা হয় কার্বন ও চারকোল। এই কার্বনের গুঁড়া বা পাউডার চীনসহ কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এসব দেশে এটি ব্যবহার করা হচ্ছে কার্বন পেপার, ফটোকপির কালি, আতশবাজি, ফেসওয়াশ, প্রসাধনী, দাঁতের ওষুধ, মোবাইল ব্যাটারির উপাদান, এমনকি কৃষিকাজে সার তৈরির মতো বিভিন্ন কাজে।
বর্তমানে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় দুইটি চারকোল কারখানা রয়েছে, যারা কৃষকদের কাছ থেকে উচ্চমূল্যে পাটকাঠি কিনছে। এতে কৃষকদের মাঝে পাটচাষে আগ্রহ বাড়ছে এবং পাট ও পাটকাঠিভিত্তিক শিল্প নতুন করে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
পাটকাঠির এই অর্থনৈতিক গুরুত্ব ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে রাজবাড়ীতে।