শিরোনাম
রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জেলা-উপজেলায় ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের ঘোষণা কালুখালীতে দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত, চ্যাম্পিয়ন খাগজানা উচ্চ বিদ্যালয় রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি ভেজাল তিল তৈরির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৬ লাখ টাকা জরিমানা রাজবাড়ীর কালুখালীতে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৩ রাজবাড়ীর লোকোশেড এলাকায় মাদকবিরোধী মোবাইল কোর্ট: গাঁজাসহ আটক ৫, কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড কালুখালীতে নিখোঁজ জামায়াত কর্মীর হাত-পা বাঁধা দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগের ৮ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার গোয়ালন্দে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির উদ্যোগে দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ মিছিল রাজবাড়ীর তিন উপজেলায় স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত

রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশন,চিকিৎসকের প্রতারণায় নি:স্ব অসহায় রোগী

ষ্টাফ রিপোর্টার | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৩৮৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২২

0Shares

সাইফুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ২৬ এপ্রিল

মানিকগঞ্জে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে অতিরিক্ত টাকা নিয়েও সঠিক চিকিৎসা সেবা না দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (সার্জারী) ডাঃ মোঃ আশরাফুল কবিরের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রোগীর মা অর্চনা রানী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনালেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও জেলা সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার সাটুরিয়া উপজেলার এক নারী কিডনিতে পাথর হওয়ায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে ও অপারেশন করাতে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়। ভুক্তভোগী রোগী মহিলা ওয়ার্ডে (সার্জারী) দুই দিন ভর্তি থাকা অবস্থায় চিকিৎসক বলেন রোগীকে বেসরকারি ক্লিনিকে অপারেশন করতে হবে। সে অনুযায়ী ওই রোগীকে সরকারি হাসপাতাল থেকে নিয়ে গিয়ে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে বেসরকারি ক্লিনিক ইউনাইটেড হাসপাতালে অপারেশন করেন ডাঃ মোঃ আশরাফুল কবির। এতে রোগীর গর্ভে থাকা দুই মাসের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায় এবং অপারেশনের এক মাস পরেও রোগীর ব্যথা না কমায় ডাঃ আশরাফুল কবির বারবার ওষুধ দেয় এবং ২/৩ দিন এভাবেই ব্যথা থেকে যায়। বিষয়টি ডাঃ আশরাফুল কবিরকে জানালে তিনি রোগেীকে পুনরায় ইউনাইটেড হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলেন। তখন তারা জানতে পারেন, বিভিন্ন পরিক্ষা নীরিক্ষা করার পরও ডাঃ আশরাফুল কবির কিডনীতে পাথর রেখে অপারেশন করেছেন। ডাঃ আশরাফুল কবির সে কথা গোপন রেখে রোগীকে পুনরায় হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন এবং আবারো বিভিন্ন পরিক্ষা নীরিক্ষা করতে বলেন। এরপর ওই রোগী ভর্তি থাকাবস্থায় ক্লিনিকের পরিক্ষা নীরিক্ষার রিপোর্ট দেখার পরও ডাঃ আশরাফুল কবিরের সহকারী রঞ্জিত জানান কিডনীতে পাথর রয়েছে।

তখন ডাঃ আশরাফুল কবির তার সহকারী রঞ্জিতের মাধ্যমে জানায় ফের ২০ হাজার টাকা দিলে পুনরায় অপারেশন করে দিবেন। তখন ভুক্তভোগী রোগীর পরিবারের লোকজন ডাঃ আশরাফুল কবিরের অবহেলা ও প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে তার প্রতি আস্থা না পেয়ে রোগীকে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে অবস্থিত পপুলার হাসপাতালে নিয়ে ফের অপারেশন করান। পুনরায় অপারেশন বাবদ তাদের প্রায় দেড় লক্ষ টাকা খরচ হয়ে যায়। এতে আগের চিকিৎসা খরচসহ অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় তিন লক্ষ টাকা ঋণ হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারটি মানবেতর জীবন যাপন করছে।

ভুক্তভোগী রোগীর সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার গর্ভের বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তার স্বামী ও শশুড় বাড়ির লোকজন যোগযোগ করা বন্ধ করে দিয়েছে। তারা চিকিৎসার জন্য কোন টাকা পয়সাও দেয়নি। তিনি বলেন, ‘ডাঃ আশরাফুল কবিরের কাছে এমন প্রতারিত হয়ে আমার জীবনে অন্ধকার নেমে এসেছে। স্বামী সংসার হারিয়েছি, গর্ভের সন্তানকে হারিয়েছি। আমার পরিবার এখন ঋণের ভারে জর্জরিত। আমি ডাক্তারের কাছে এমন প্রতারণার কারণ জানতে চাইলে তিনি আমাকে বলেন, তোমার জীবন তো বেঁচে আছে, তুমি তো আর মারা যাওনি। একজন চিকিৎসক হয়ে তিনি কিভাবে এতটা অমানবিক হলেন? আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

ভুক্তভোগী রোগীর মা অর্চনা রানী বলেন, আমার মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। সব টাকা ঋণ করে মেয়ের জীবন বাঁচিয়েছি, কিন্ত মেয়ের সংসার বাঁচাতে পারিনি। আমরা গরিব মানুষ বলে কি এর বিচার পাবো না?

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত চিকিসৎসক ডাঃ মোঃ আশরাফুল কবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সিভিল সার্জন অফিসে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। আমি যা বলার তদন্ত কমিটিকে বলবো, এ নিয়ে গণমাধ্যমে কোন কথা বলবো না।

এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনালেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আরশাদ উল্লাহ বলেন, শীঘ্রই তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত চলছে, তদন্তে কারো গাফলতি প্রমাণিত হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg