স্টাফ রিপোর্টার: মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে রাজবাড়ীতে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করা, প্রতিটি শ্রেণিতে ইনকোর্স পরীক্ষা গ্রহণ, সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং বন্ধ রাখা, শ্রেণিকক্ষে স্মার্টফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাজবাড়ীর সম্মেলন কক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীনের সভাপতিত্বে সভাটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় রাজবাড়ী জেলার ৭০টি বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সভায় যুক্ত হন।
সভায় শিক্ষার মানোন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী নির্ধারিত উপস্থিতির শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এছাড়া প্রতিটি শ্রেণিতে ইনকোর্স পরীক্ষা গ্রহণ করতে হবে। ইনকোর্স পরীক্ষার নম্বর বার্ষিক পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে যথাযথভাবে সমন্বয় করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও পাঠদানের মান বজায় রাখতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সব ধরনের প্রাইভেট পড়ানো ও কোচিং বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সভায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোন আনা ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। কোনো শিক্ষার্থী এ নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
দুর্বল শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে নিয়মিত ক্লাসের পর অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়ার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার টেস্ট পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হলে সে সংশ্লিষ্ট পাবলিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে না। একইভাবে অন্যান্য শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী অনুত্তীর্ণ হলে তাকে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা যাবে না।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আফরোজা পারভীন বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, যথাযথভাবে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা, পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।