জহুরুল ইসলাম হালিম// রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া থেকে ট্রাকে চাঁদাবাজির দায়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ।
গতকাল ১৭ নভেম্বর দিবাগত মধ্য রাতে ঘাটে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। ট্রাক ড্রাইভার মোঃ শরীফুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ৭/৮ জনকে অজ্ঞাতনামা উল্লেখ করে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- দৌলতদিয়া ইউনিয়নের রাজীব মন্ডল (২৩),আজিজুল ইসলাম (২৬), বাহাদুর খান (৩০), মোঃ হাফিজ (২৫), রাসেল মন্ডল (২১), মোঃ আলামিন (২৭), রাজু সেক (৩১), আনোয়ার হোসেন বিল্লাল (২৪), মোস্তফা সেক (২৬), খোকন ফকির (২২), দেলোয়ার হোসেন (২৪), জুয়েল সেক (২১), টিটু সেক (২০), মিন্টু ফকির (২৫), ইমরান (২৪), ফজলুল খাঁন (৪০), এবং শফিক (২৫), এদের সবার বাড়ি গোয়ালন্দ উপজেলাধীন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ট্রাক ড্রাইভার শরিফুল ইসলাম গতকাল ১৭ নভেম্বর (মঙ্গলবার) সন্ধ্যার পর যশোরের মনিরামপুর হতে ট্রাকভর্তি মাছ বোঝাই করে সিলেটের উদ্দ্যেশে রওনা দেন। রাত সোয়া ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ক্যানালঘাট নামক এলাকায় এসে মহাসড়কে সৃষ্ট যানজটে আটকা পড়েন। এসময় আটক আসামীরা সংঘবদ্ধ হয়ে লাঠি সোটা নিয়ে তার ট্রাকের সামনে এসে ২০ হাজার টাকা চাঁদাদাবি করে। তিনি আপত্তি করলে তার ট্রাকের ওপর হামলা চালিয়ে লুকিং গ্লাস ভাংচুর সহ অন্যন্যা ক্ষতি সাধন করে এবং তাকে মারধর করে। এ সময় বাধ্য হয়েই তাদের কাছে থাকা ৪০০০/= টাকা চাঁদা হিসাবে প্রদান করা হয়। বাকী ১৬০০০/= টাকা দ্রুত দেয়ার কথা বলে হুমকি প্রদান করে যে, ঘাট এলাকা দিয়ে পারাপার হলে তাদেরকে প্রতি মাসে ২০,০০০/= টাকা করে চাঁদা দিতে হবে অন্যথায় প্রানে মেরে ফেলা হবে। এসময় তাদের ভয়ে ডাক চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন এসে ৭জনকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে আটক ৭জনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাকী ১০জন আসামীর নাম ঠিকানা উদ্ধার করে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ আল তায়াবীর বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের কে আজ ১৮ নভেম্বর (বুধবার) আদালতের মাধ্যমে রাজবাড়ী কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে। দৌলতদিয়া ঘাটকে চাঁদাবাজ ও দালাল মুক্ত রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি।