স্টাফ রিপোর্টার :রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগে মাসুদ মন্ডল নামে এক সার ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। একই সঙ্গে তার ডিলারশিপ লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গোয়ালন্দ উপজেলা প্রশাসন ভবনের সামনে উপজেলা কৃষকবৃন্দের ব্যানারে কয়েক শত কৃষক এই মানববন্ধনে অংশ নেন।
মানববন্ধনকারীরা জানান, এর আগে গত বৃহস্পতিবার উজানচর ইউনিয়নের কৃষকদের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ জেলা প্রশাসক, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাসুদ মন্ডল উজানচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসু মন্ডলের ছেলে এবং গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের একজন সক্রিয় কর্মী। কৃষকদের অভিযোগ, খুচরা ডিলার থাকাকালীন সময়েও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করতেন, যার ফলে কেউ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পেত না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বর্তমানে সরকার নির্ধারিত ডিএপি সারের মূল্য প্রতি বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও মাসুদ মন্ডল কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। শুধু ডিএপি নয়, সব ধরনের সারই সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে কৃষকেরা ন্যায্য মূল্যে সার কিনতে না পেরে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, এর আগেও মাসুদ মন্ডলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে তার পাইকারি সার বিক্রির অনুমোদন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতায় তিনি পুনরায় পাইকারি সার বিক্রির অনুমোদন পেয়েছেন। এই অবস্থায় অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সঙ্গে জড়িত পাইকারি ও খুচরা ডিলারশিপ লাইসেন্স বাতিল ও স্থগিতের দাবি জানান কৃষকেরা।
উজানচর ইউনিয়নের কৃষক কালাচান শেখ বলেন, “সরকারি দামে ডিএপি সারের বস্তা ১ হাজার ৫০ টাকা হলেও তিনি ১ হাজার ৬৫০ টাকা নেন। বাকিতে নিলে ১ হাজার ৬৮০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাসুদ মন্ডল দাবি করেন, আমি ইউনিয়ন পর্যায়ে খুব কম সার পাই এবং সরকারি দামেই বিক্রি করি। বর্তমানে আমি সার বিক্রি করছি না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সৈয়দ রায়হানুল হায়দার বলেন, আগের অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা কমিটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় তাকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছিল। এখন নতুন করে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, গত সপ্তাহে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বৃহস্পতিবার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং আজকের মানববন্ধনের বিষয়টিও অবগত আছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।