স্টাফ রিপোর্টার:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় টয়লেটের স্লাব বসানোকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে এক দম্পতির উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বামী-স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন আব্দুল হাকিম তালুকদার (৬০) ও তার স্ত্রী শাফিয়া বেগম (৫৫)। বর্তমানে তারা গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নবুওসিমদ্দিন পাড়ায়, ঢাকা–খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন নবুওসিমদ্দিন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে এ ঘটনা ঘটে।
গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত আব্দুল হাকিম ও তার স্ত্রী শাফিয়া বেগম জানান, প্রতিবেশী আঃ রাজ্জাক সরদার কয়েকজন লোক নিয়ে জোরপূর্বক তাদের দাবি করা জমিতে টয়লেটের স্লাব বসাতে গেলে তারা বাধা দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আঃ রাজ্জাক ফোন করে আরও ৮–১০ জন অজ্ঞাত যুবককে ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন। পরে তারা সংঘবদ্ধভাবে চাকু ও লাঠি দিয়ে হামলা চালিয়ে স্বামী-স্ত্রীকে মারাত্মকভাবে আহত করেন।
তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে আহত অবস্থায় দম্পতিকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আঃ রাজ্জাক সরদার বলেন, আমি আমার নিজ জায়গায় টয়লেট বসাতে গেলে আমার চাচা আব্দুল হাকিম বাধা দেন। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে কিলঘুষির ঘটনা ঘটে। আমার হাতে থাকা মোবাইলের আঘাতে তার কপালে সামান্য রক্ত বের হয়। ধাক্কাধাক্কির সময় আমার চাচী পাশের দেয়ালে থাকা বিদ্যুৎ মিটারের সঙ্গে লেগে আঘাত পেতে পারেন। আমার হাতে কোনো চাকু বা অস্ত্র ছিল না।
এদিকে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাড়ির সীমানা ও জমাজমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। টয়লেটের স্লাব বসানোকে কেন্দ্র করেই ওই বিরোধ সহিংসতায় রূপ নেয়।
এ ঘটনায় আহত আব্দুল হাকিমের ছেলে শরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মমিনুল ইসলাম বলেন,অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।