স্টাফ রিপোর্টার” রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে একই পরিবারের চারজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সদস্য চরম দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
পরিবারটির সদস্যরা হলেন মোঃ আকবর মোল্লার বড় ছেলে মোঃ আতিয়ার মোল্লা (৪২), তার স্ত্রী মোছাঃ রহিমা বিবি (৩৯) এবং তাদের সন্তান আশা আক্তার (২০) ও মোঃ বাদল মোল্লা (১৬)। চারজনই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী।
সরেজমিনে দেখা যায়, তাদের বসবাসের ঘরটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ। টিনের চালায় বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র ও জং ধরায় বৃষ্টির পানি সরাসরি ঘরের ভেতরে পড়ে। ঘরে নেই তেমন কোনো আসবাবপত্র মাত্র একটি কাঠের চৌকি রয়েছে। সেই চৌকিতেই চারজনকে গাদাগাদি করে থাকতে হয়। বৃষ্টির পানিতে ঘরের ভেতরেও পানি জমে থাকে।
প্রতিবন্ধী আতিয়ার মোল্লার সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি অধিকাংশ প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন না। পরিবারের অন্য সদস্যদের অবস্থাও প্রায় একই।
আতিয়ারের পিতা আকবর মোল্লা জানান, জন্মের পর থেকেই তার ছেলের শ্রবণ সমস্যা ছিল। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। ছোটবেলায় সে প্রায়ই বাড়ি থেকে হারিয়ে যেতো। পরে ধারণা করে ছেলের বিয়ে দিলে অবস্থার উন্নতি হবে ভেবে বিয়ে দেন। কিন্তু তার স্ত্রীও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তাদের সন্তান দুজনও একই সমস্যায় আক্রান্ত।
প্রতিবেশী রেজাউল করিম ও সহিতন বেগম বলেন, পরিবারের সবাই প্রতিবন্ধী হওয়ায় কেউ তাদের কাজে নেয় না। ফলে আয়-রোজগারের কোনো উপায় নেই। প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনোমতে খাবার জোটে তাদের।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, পরিবারটির সবাই প্রতিবন্ধী। তাদের আয়ের কোনো উৎস নেই। মাঝে মাঝে আমরাও সাহায্য করি। বর্তমানে তাদের বসবাসের ঘরটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত মেরামত প্রয়োজন। পাশাপাশি তাদের প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা জরুরি।
তিনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, পরিবারটির বিষয়ে আমরা অবগত আছি। খুব দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে তাদের ঘর মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।