স্টাফ রিপোর্টার:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় অবৈধ ড্রেজার ও নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সামান্য ক্ষয়ক্ষতি বা জরিমানার পরই অভিযুক্তরা আরও দ্বিগুণ শক্তিতে পুনরায় অবৈধ কার্যক্রম শুরু করছে।
সম্প্রতি গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে নুরু মন্ডলের হ্যাচারি ও জীবনের দোকানের আশপাশে কয়েকটি বড় পুকুরে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ভরাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ইসমাইল নামের এক ব্যক্তি এসব পুকুরে বালু ভরাটের কাজ পরিচালনা করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সংশ্লিষ্ট ছবি ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগ রয়েছে, এই অবৈধ বালু উত্তোলন ও ভরাট কার্যক্রম থেকে কমিশনের বিনিময়ে গোয়ালন্দের কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সুবিধা নিচ্ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, কেউ কেউ চাকরি ছেড়ে দিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রমকেই আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ফলে নদী ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হলেও তা দেখার যেন কেউ নেই।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ, যেভাবে পানি আসে সেভাবেই চলে যাচ্ছে নদীভাঙন, পরিবেশ ধ্বংস ও জলাবদ্ধতা বেড়েই চলেছে। অথচ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখছে না। তাদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বর্তমানে নির্বাচন উপলক্ষে প্রচার ও আনুষঙ্গিক কাজে ব্যস্ত থাকায় এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড তদারকির বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে ইসমাইল জানান, আমি ড্রেজার চালাচ্ছি ঠিকই, তবে নদীর পাশে মালিকানাধীন জমি থেকেই মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুনতাসির হাসান খান বলেন, জেলা প্রশাসকের অনুমতি ছাড়া কোনো ধরনের মাটি কাটা যাবে না। আমার জানামতে সেখানে কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং অতি দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে শুক্রবার স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, গোয়ালন্দ ধ্বংস হলে এতে ক্ষতি কার তারা অবিলম্বে অবৈধ ড্রেজার ও নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।