শিরোনাম
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের হাজিরায় কড়াকড়ি, দেরি হলেই শোকজ গোয়ালন্দে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন, বাড়ছে অবৈধ সার বিক্রির অভিযোগ পাংশায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬ বসতবাড়ি পুড়ে ছাই পদ্মায় তীব্র স্রোত, জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে ১৩ দিন ধরে ফেরি বন্ধ ঝুঁকি নিয়ে নৌকা-স্পিডবোটে নদী পারাপার, চরম দুর্ভোগে যাত্রী ও চালকেরা কালুখালীতে সালেহা সামাদ হাসপাতালে মোবাইল কোর্ট, মালিককে ৩ হাজার টাকা জরিমানা গোয়ালন্দে ৪০ বছরের শিক্ষকতা শেষে আব্বাস আলী মোল্লার অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা গোয়ালন্দে এসআরবি-১০-এর অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র ও ককটেলসদৃশ বস্তু উদ্ধার, আকাশ গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে বিকাশ প্রতারণা চক্রের দুই সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার গোয়ালন্দ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের আকস্মিক পরিদর্শন কালুখালীতে নৌকাবাইচ ও গ্রামীণ মেলার সমাপ্তি

গোয়ালন্দে প্রশাসনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন, বাড়ছে অবৈধ সার বিক্রির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার / ২৮ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় সার বিতরণ ও বিক্রিকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের একটি অংশ সরকারি বরাদ্দের সার জেলার বাইরে বিক্রি করছেন। পাশাপাশি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। এতে প্রয়োজনের সময় সার না পেয়ে আমন চাষ নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের একটি অংশের অনিয়মের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, গোয়ালন্দ উপজেলায় বিসিআইসি ও বিএডিসির পাঁচজন ডিলারের বিরুদ্ধে খুচরা বিক্রেতাদের পর্যাপ্ত সার না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন অজুহাতে সার সরবরাহ না করে বস্তাপ্রতি ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রির অভিযোগও করেছেন কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা। একই সঙ্গে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।

সম্প্রতি মেসার্স মন্ডল ট্রেডার্স থেকে ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর এলাকার কোব্বাত নামে এক খুচরা বিক্রেতার কাছে সার বিক্রির অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি স্থানীয় কৃষকদের নজরে এলে তারা সার আটকে দেন। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান।

কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তার ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হওয়ার সুযোগে দেলোয়ার নামে এক ব্যক্তি সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় সার নিয়ে যান। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। পরে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্ডল ট্রেডার্সকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার কথা জানান এবং তদন্ত চলছে বলে জানান।

এদিকে গত ১৮ আগস্ট অবৈধভাবে সার পাচারের সময় এক ডিলারকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে একই ব্যক্তিকে সার পাচারের অভিযোগে আরও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কয়েক দিন আগে মুন্সি বাজার এলাকায় অবৈধভাবে সার বিক্রির সময় সার জব্দ করে উপজেলা প্রশাসনের হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে ওই সার মন্ডল ট্রেডার্সের কাছে বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্থানীয় কৃষকদের মানববন্ধনের ঘটনাও ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, এরপর প্রায় দুই মাস প্রতিষ্ঠানটির সার বিতরণ বন্ধ ছিল। পরে আবারও প্রতিষ্ঠানটিকে সার সরবরাহ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

ইউনিয়ন পর্যায়ের ডিলারদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। উজানচর ইউনিয়নের ডিলার নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জেলার বাইরে সার বিক্রির অভিযোগ করেছেন ঈশান গোপালপুর এলাকার কয়েকজন কৃষক। তাদের দাবি, প্রয়োজনের সময় তারা ওই ডিলারের কাছ থেকে সার কিনেছেন।

তবে নজরুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কৃষকরা মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমি তাদের কাছে কীটনাশক বিক্রি করলেও সার বিক্রি করি না।

ছোট ভাকলা ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা সপ্তবর্ণা ট্রেডার্সের বিরুদ্ধেও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা বলেন, বস্তাপ্রতি অতিরিক্ত টাকা না দিলে অনেক সময় সার দেওয়া হয় না। আবার কখনো সার নেই বলে বাইরে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, ১ হাজার ৫০ টাকা মূল্যের এমওপি সারের বস্তায় কখনো কখনো অতিরিক্ত ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া স্থানীয় খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে সাহা ট্রেডার্সের বিরুদ্ধেও।

কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সার বিতরণ ব্যবস্থায় তদারকির ঘাটতি রয়েছে। তাদের দাবি, কিছু ডিলার ও অবৈধ সার বিক্রেতার একটি চক্র সার সরবরাহ ও দামের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে ৫০ কেজির এক বস্তা সার কিনতে স্থানভেদে কৃষকদের অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।

অন্যদিকে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির নিয়মিত সভায় সারের কোনো সংকট নেই এবং নির্ধারিত দামের বাইরে সার বিক্রি হচ্ছে না বলে দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, সার বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম বন্ধে নিয়মিত ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা, ডিলারদের মজুত ও বিক্রির হিসাব যাচাই এবং জেলার বাইরে সার পাচার বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘সার ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মন্ডল ট্রেডার্সকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমাদের নিয়মিত মনিটরিং আরও জোরদার করা হয়েছে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg