স্টাফ রিপোর্টার: পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে রাজবাড়ীর জৌকুড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটে গত ১৩ দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে বন্ধ রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটের ফেরি সার্ভিস। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও ব্যবসায়ীরা।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ইঞ্জিনচালিত নৌকা ও স্পিডবোটে পদ্মা নদী পার হচ্ছেন যাত্রীরা। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর উপজেলার জৌকুড়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটের পশ্চিম পাশে কপোতি ও ক্যামেলিয়া নামে দুটি ফেরি অলস পড়ে রয়েছে। পাশের ট্রলারঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় উত্তাল পদ্মা পার হচ্ছেন যাত্রীরা। ফেরি ও বাস-ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাট এলাকার অধিকাংশ দোকানপাটেও দেখা গেছে সুনসান নীরবতা।
ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) নৌরুটটির দায়িত্ব নেয়। এরপর কপোতি ও ক্যামেলিয়া নামে দুটি ফেরি দিয়ে নৌরুটে চলাচল শুরু হয়। প্রতিটি ফেরি প্রতিদিন চারবার করে জৌকুড়া থেকে পাবনার নাজিরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যেত।
স্বাভাবিক সময়ে ফেরিতে নৌরুটটি পার হতে সময় লাগত প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট। কিন্তু পদ্মায় স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় পারাপারে সময় বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটে। এতে ফেরির ইঞ্জিন অতিরিক্ত গরম হয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হলে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটে প্রায়ই ফেরি চলাচল ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ রুটে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ফেরি দেওয়া হয়নি। ফলে কোনো একটি ফেরি বিকল হলে পুরো নৌরুটের স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়।
যাত্রীদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কাছ থেকে বিআইডব্লিউটিসির অধীনে ফেরি চলাচল শুরু হলেও দুর্ভোগ কমেনি। দুটি ফেরির মধ্যে একটি প্রায় তিন মাস ধরে বিকল রয়েছে। অপর ফেরিটিও বর্তমানে পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিনই ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
চালকেরা জানান, জৌকুড়া-নাজিরগঞ্জ নৌরুটটি শুধু পাবনার সঙ্গে নয়, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলার সঙ্গে রাজবাড়ী ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ রুট দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, মিনিবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন পারাপার হয়। ফেরি বন্ধ থাকায় এসব যানবাহনকে দীর্ঘ ঘুরপথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে সময় ও জ্বালানি দুই খরচই বাড়ছে।
এদিকে, ফেরি চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কদম নামে আরেকটি ফেরি নৌরুটে চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মেরিন বিভাগের আপত্তির কারণে সেটিও চালু করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ঘাট কর্তৃপক্ষ।
জৌকুড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রফিউল ইসলাম বলেন, আমাদের নৌরুটে কপোতি ও ক্যামেলিয়া নামে দুটি ফেরি রয়েছে। প্রতিদিন রাজবাড়ীর জৌকুড়া থেকে চারবার করে পাবনার নাজিরগঞ্জের উদ্দেশ্যে ফেরি ছেড়ে যেত। কিন্তু পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারণে ফেরির ইঞ্জিন ওভারহিট হয়ে যায়। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কদম নামে একটি ফেরি নৌরুটে চলাচলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মেরিন বিভাগের আপত্তির কারণে সেটিও চালানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দ্রুত বিকল্প ফেরির ব্যবস্থা করে নৌরুটে যোগাযোগ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় শুধু যাত্রীদের নয়, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।