রাজু আহমেদ,( রাজবাড়ী) রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স যেন নিজেই এক অসুস্থ রোগী। অব্যবস্থাপনা, জনবল ও ঔষধ সংকট, অপরিচ্ছন্নতা এবং কর্তৃপক্ষের অবহেলায় সরকারি এই হাসপাতালটি এখন রোগীদের ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। সরেজমিনে গত শনিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ লাইন। শিশু বিভাগে মাত্র একজন চিকিৎসক থাকায় সন্তান নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয় মায়েদের। একই অবস্থা অর্থোপেডিকস বিভাগেও একজন মাত্র চিকিৎসকের কারণে রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। হাসপাতালের ভেতরের চিত্র আরও করুণ। দ্বিতীয় তলায় রোগীর পাশেই মেঝেতে ময়লার দাগ, দেয়ালে কফ, থুতু ও পানের পিকের ছাপ। বিছানায় ময়লাযুক্ত পুরনো বেডশিট, কখনো সেটাও থাকে না। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর না থাকায় পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়, চিকিৎসক ও নার্সরা মোবাইলের আলোয় সেবা দেন। প্রচণ্ড গরমে রোগী ও স্বজনদের অবস্থা হয় আরও শোচনীয়। বাথরুমের দুর্গন্ধ এবং অপরিচ্ছন্ন ড্রেনের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে, ছড়াচ্ছে ডেঙ্গুর প্রভাবও। প্রয়োজনীয় ঔষধেরও চরম সংকট রয়েছে নামমাত্র কয়েকটি ঔষধ ছাড়া সবই বাইরে থেকে কিনতে হয়। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের আত্মীয়রা ইচ্ছেমতো ঔষধ নিয়ে যান। দুটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক না থাকায় সেবাটি বন্ধ। অযত্নে পড়ে থাকা অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নার্সদের আচরণ নিয়েও রয়েছে অসন্তোষ ও অভিযোগ। এক রোগীর স্বজন বলেন, “অসুস্থ মেয়েকে নিয়ে দুই দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। টয়লেটের অবস্থার কারণে খাবার-পানিও কম খাচ্ছি। এখানে সেবা বলতে কিছুই নেই। এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবাদত হোসেন বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী এখানে ৩১ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৯ জন আছেন। রোগীর চাপ ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ হওয়ায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিয়মিতভাবে করার চেষ্টা চলছে। অ্যাম্বুলেন্স চালকের অভাবে সেবাটি বন্ধ রয়েছে। তিনি জানান, জনবল সংকট ও অন্যান্য সমস্যার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে আবেদনও করা হয়েছে। রাজবাড়ীর গুরুত্বপূর্ণ পাংশা উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৭৪ হাজার মানুষের চিকিৎসা ভরসা এই ৫০ শয্যার হাসপাতাল। উপজেলার পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়নের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী খোকসা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি থেকেও রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন।জনগণের দাবি দ্রুত জনবল নিয়োগ, সেবার মানোন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা রক্ষা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসন। নইলে এ দুর্ভোগ আরও দীর্ঘস্থায়ী হবে।