স্টাফ রিপোর্টার: ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের বিথী আক্তারের পেটে গজ রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিথী।
বিথী আক্তার রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধাপাড়ার ছোরাপ মন্ডলের মেয়ে। তিনি পেশায় একজন ডিপ্লোমা মিডওয়াইফ। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে জামতলা হাট এলাকায় বসবাস করছেন।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক মাস আগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরিবারের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারের সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক অরবিন্দ চিকিৎসা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর বিথীর পেটে গজ রেখে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ পরিবারের।
তাদের ভাষ্য, অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে তার শরীরে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সিসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিথীর একটি নবজাতক সন্তান রয়েছে। কিন্তু প্রায় চার মাস ধরে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি সন্তানকে কোলে নিতে পারছেন না। এমনকি সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো কিংবা কাছে নিয়ে মায়ের স্নেহ দেওয়ার মতো অবস্থাতেও নেই তিনি। এতে মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুটি।
বিথীর পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা বা অস্ত্রোপচারের সময় পেটে গজ রেখে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটে থাকলে তা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন। তারা এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণ ও জরিমানার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিথীর উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করে তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনরা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত চিকিৎসকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।