শিরোনাম
পাংশায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে আসছেন অর্থ উপদেষ্টাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গোয়ালন্দে পাচারের সময় সরকারি সার আটক, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ রাজবাড়ী ইয়াছিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান গোয়ালন্দে ন্যায্যমূল্যে সার সরবরাহসহ ১০ দফা দাবিতে কৃষক সমিতির বিক্ষোভ দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে যৌনকর্মীর মাথা থেঁতলানো রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার বালিয়াকান্দিতে শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধের অভিযোগ, প্রথম কর্মদিবসেই পরিস্থিতি শান্ত করে প্রশংসিত ইউএনও মুরাদ ইসলাম রাজবাড়ীতে গণশুনানি: নাগরিকদের অভিযোগ শুনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ডিসির গোয়ালন্দে মাদক, ইভটিজিং ও বাল্যবিবাহ রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন ওসি পাংশায় সচল পাইপগান ও তাজা কার্তুজসহ দুইজন গ্রেপ্তার

বাংলা একাডেমি’র প্রমিত বানান ও কিছু কথা

স্টাফ রিপোর্টার / ২৭৭৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২০

0Shares

সাজু বিশ্বাস।।

শব্দের কাজ শুধু মনের ভাব প্রকাশ করাই নয়। শব্দগুলো ভাষার অলংকার। তবে গহনারও রকমফের আছে। কিছু অলঙ্কার যত্ন করে তুলে রাখা হয়। আর কিছু সব সময়ের জন্য ব্যবহৃত হতে হতে পুরনো হয়ে আসে, ক্ষয় হয়ে যায়, আবার ভেঙে নতুন করে তৈরি করা হয়। মানুষের মুখে ব্যবহৃত হতে হতে শব্দ গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে। আবার মানুষের না ব্যবহার করার কারণে শব্দ ভালোবাসা থেকে ভাল বাসায় গিয়ে শেষ হয়,— চেয়ার কোনোদিনও কেদারা হয়ে ওঠে না।

বাংলা একাডেমি ঠিক কিসের কিসের উপর ভিত্তি করে শব্দগুলো পরিবর্তন করেছে তার প্রত্যেকটার ব্যাখ্যা থাকলে ভাল হতো। ঈদ শব্দটা পুরোপুরিই ঐতিহ্যের মতন। মানুষ চোখ বুঁজে ভাববে ঈদ মানে দীর্ঘ-ঈ। ঈ-কার বাদ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই যদি ঈদকে ইদ আর মহামারী থেকে মহামারি বানানো হয়, তাতে কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। ঈশ্বর, ঈমান, হীনমন্যতা, ঈশান, জীবন, নারী… এই শব্দগুলো এত প্রচলিত যে ঈগল ঈদ এমন গোটাকতক শব্দ পরিবর্তন করে দিলেই দীর্ঘ -ঈ কার বাংলা শব্দভাণ্ডার থেকে বিদায় নেবে এমন আশা করার কোনও কারণ নেই। বহুল প্রচলিত এবং ঐতিহ্যবাহী শব্দগুলোকে অক্ষত থাকতে দিন। এগুলো ব্যবহৃত হতে হতে এমন হয়েছে যে এগুলো আর কষ্ট করে মুখস্থ করতে হয়না। এবং ঠিক এই শব্দগুলো ছাড়া ঐ সব অর্থ এবং ঘটনা কেমন যেন জমে না!

যুক্ত শব্দে আসি। সম্ভবত একসময় যুক্ত শব্দগুলো তৈরিই হয়েছিল ভাষাকে সহজ ভাবে প্রকাশ করার জন্য। পা থেকে মাথা পর্যন্ত বলার চেয়ে আপাদমস্তক বলাটা সহজ। তবে শব্দগুলো যুক্ত করারও শিল্প আছে। আ মানে হচ্ছে পর্যন্ত – পাদ মানে পা, মস্তক মানে হল মাথা। পুরো শব্দের ভাঙা অর্থগুলোর সাথে প্রত্যেকটা সিঙ্গেল অর্থের সরাসরি মিল রয়েছে।

বাংলা একাডেমির কিছু পরিবর্তিত শব্দ দেখাই,

বিবাদমান- বিবদমান

প্রবাহমান – প্রবহমান

অন্তস্থল – অন্তস্তল

নিরবিচ্ছিন্ন – নিরবছিন্ন

বিবাদ মানে ঝগড়া। সেই অর্থে বিবাদমান মানে ঝগড়া চলাকালীন অবস্থা। বিবদ কি জিনিস? বিবাদের আ- কার কেটে দিয়ে কি সহজ শব্দ হল! অর্থ তো পুরো ন অক্ষর রসগোল্লা হয়ে গেল! প্রবাহ মানে ধারা বা চলমান। সেই অর্থে প্রবাহমান। প্রবহ কি জিনিস? তারচেয়ে তো বহমান ভাল ছিল। হয় প্রবাহ, না হলে বহমান। বাড়তি একটি অর্থহীন প্র লাগিয়ে দেবার দরকার কি!

অন্তস্থল বাদ দিয়ে অন্তস্তল করা একটি হাস্যকর মগজহীন কাজ হয়েছে। অন্তস্হল মানে হল, শেষ জায়গা। অন্তরের একদম গভীর জায়গা – অন্তরের অন্তস্থল…… এইরকম ইমোশনাল শব্দ।
অন্ত তো বুঝলাম, অন্ত মানে শেষ। স্তল কি জিনিস??

নিরবিচ্ছিন্ন মানে হল নিরন্তর বা কন্টিনিউড বা বিরতিহীন। নিরবচ্ছিন্ন শব্দের অর্থ কি? বড়জোর এর শাব্দিক অর্থ ”নিরবতা ছিন্ন করা” — হতে পারে। নিরবচ্ছিন্ন কোনওভাবেই বিরতিহীন অর্থকে প্রমোট করে না।

সহজ করার উদ্দেশ্যে যুক্ত শব্দ উঠায়ে দিলেন, এদিকে বিপদজনক বিপজ্জনক আর পন্ডিতকে সহজ সরল জায়গা থেকে টেনে হিঁচড়ে একদম মূর্ধন্য মাঝখানে বসিয়ে পণ্ডিত বানিয়ে ফেললেন! রুগ্ন-র গ্ন যুক্ত ছাড়াতে গিয়ে রুগ্ ন একেবারে ডায়রিয়ার রোগী হয়ে গেল! উচ্চারণ কিন্তু রু-গন করতে হবে।

সম্মানীয়র মাঝখানে একটা বাড়তি ন ঢুকালে কি বিষয়টা সহজ হল না উল্টো ঝামেলা ঢুকিয়ে দেওয়া হল! সম্মাননীয়! হুদাই উচ্চারণ দীর্ঘায়িত করা হল।

দুটো শব্দ খুব মজার অর্থ পাল্টেছেন।
দীর্ঘজীবি থেকে দীর্ঘজীবী। খেয়াল করতে পারেননি বোধহয় জীবী শব্দ এবং জীবি শব্দ দুটোই কিন্তু বহুল প্রচলিত এবং ব্যবহৃত শব্দ। জীবী শব্দটি পেশার ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে– জীবীকা অর্থে। এদিকে জীবি শব্দটি জীবত বা জীবন অর্থে ব্যবহৃত হয়। তো, সেই দিক দিয়ে দীর্ঘজীবির সাথে জীবিত শব্দটিই সঠিক ছিল। একদিকে সহজ করার জন্য দূরবীন থেকে ঈ- কার তুলে দিলেন। আরেকদিকে জীবিতকে জীবী বানিয়ে দিলেন!

পুরোই এলোমেলো করে দে মা!
উত্যক্ত এমনিতেই ভাল ছিল। সহজ সরল উচ্চারণ। উত্ত্যক্ত উচ্চারণ করতে তো পুরোই ত্ত্য-ক্ত হতে হবে!
ত ত্ ত ত। দর্জি একটি চমৎকার প্রচলিত শব্দ। কত গল্প কাহিনী ঘোরাফেরা করছে এই শব্দ নিয়ে। দরজি তো পুরোই টাইমআউট উচ্চারণ সিস্টেম হয়া গেছে! শ্লোগান আমাদের কি প্রিয়! কি প্রিয়! তাকে এখন যদি কেউ ছোলোগান বলে, কোনও গান কিন্তু চলবে না। স- উচ্চারণ ভেদে ছ এর মতন হয়।
আমার বাড়ি আসার পথে একটা ছোট্ট বুটিক হাউজ আছে, তার নাম রোকছানা। অনেক বুদ্ধি খাটিয়ে আমি বের করেছি রোকসানা বেচারির সঠিক উচ্চারণ না জানার কারনে আজ বানানের এই হাল!

স্বপরিবার মানে নিজের পরিবার। সপরিবার কি!

(লেখক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী, বর্তমানে সিনিয়র অফিসার, সোনালী ব্যাংক লিঃ খুলনা)

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg