শিরোনাম
রাজবাড়ীতে স্বাধীনতা প্রকল্পের হাফ-ডে অরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত গোয়ালন্দে ১০৫০ পুরিয়া হেরোইনসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তার রাজবাড়ীতে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলামের রাজবাড়ীতে নানা আয়োজনে এনটিভির ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন রাজবাড়ীতে নবজাতকের মরদেহ ঘিরে চাঞ্চল্য, মামা শ্বশুরের বিরুদ্ধে দাফন না করার অভিযোগ গোয়ালন্দে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭’-এর শুভ উদ্বোধন গোয়ালন্দে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু, কেন্দ্র পরিদর্শনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজবাড়ী সদর খাদ্য গুদামের সামনে ময়লার ভাগাড়ে কাপড়ে মোড়ানো নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার

আমরা প্রবাসীরা দেশে কষ্ট করে টাকা পাঠাই, আর সুবিধাবাদী কিছু অমানুষেরা টাকা বিদেশে পাচার করে

স্টাফ রিপোর্টার / ৮৩৯ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

0Shares

কাতার প্রবাসী সহিদুল ইসলাম ২০১৩ সালে ছয় ভাই-বোনের সংসারের অভাব ঘোচানোর তাগিদেই অনেক কষ্ট আর ঋণগ্রস্থ হয়ে সুখের আশায় পাড়ি দিয়েছিলো মরুদেশ কাতারে৷

শুনছিলাম তার মুখেই তাঁর প্রবাসজীবনের কথা। দীর্ঘ সাত বছর প্রবাসে কাটিয়ে দিয়েছি সংসারের ঘানি টানতে টানতে, নিজেকে মাঝেমাঝে খুব বোকা মনে হয়, এক কথায় সংসারের সুখের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিলাম অসহায় হয়ে প্রবাসের মাটিতে ৷ সংসারের সুখের পিছনে ছুটতে ছুটতে জীবনের ৩৩ বছর পার হলো বুঝতেই পারিনি৷

কাতার প্রবাসী সহিদুল ইসলাম

আমি হাউজ ড্রাইভার হিসাবে কাতারে আসি, প্রথম ছয় মাস বলতে গেলে শুধু খাওয়া থাকা পেয়েছি তারপর থেকে যা বেতন পেতাম সবই লোনের টাকা পাঠাতে হয়েছে।
তারপর আবার বাবা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় সংসারের পুরো চাপ আসে আমার ওপর৷

নিজেকে বিলিয়ে দিলাম কাজের মধ্যে ৷ ঋণ শোধের চিন্তায় কত রাত যে নির্ঘুম কেটেছে৷ অপেক্ষা ছিল কখন শেষ হবে ঋণ, কিস্তি থাকলে প্রবাস জীবনটা কত যন্ত্রণার ও কষ্টের তা প্রবাসী ছাড়া কেউ বুঝে না, মাসে মাসে যা বেতন পাই তার বেশিরভাগই ঋণ শোধ করতে ফুরিয়ে যেত৷

তখন বেশি টাকা বাড়িতে দিতে পারতাম না বলে বাড়ির সবাই আমাকে নানা কথা বলত, খুব খারাপ লাগতো তখন৷ নিজেকে শূন্য অনুভূতি হতো৷

অভিমানে মনে হতো দেশ ছেড়ে কেন একা একা জ্বলছি দূর প্রবাসে, আমি তো চেয়েছিলাম সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে৷ কী পেলাম আপনজনদের থেকে যন্ত্রণা ছাড়া? কাদের জন্য জীবনের অনেকগুলো বছর যন্ত্রণার প্রবাসে ঘাম ঝরিয়েছি৷ কাদের সুখের জন্য তবে কবর দিয়েছি এই মরুতে আমার যৌবন!

যাইহোক পরে ধার দেনা শেষ হলো, হাতে কিছু টাকাও জমিয়েছি ভাবলাম এবার একটু ছুটি দরকার চার বছর পর আমি দেশে ছুটিতে যাই, বিয়ে করলাম আমার এসে পরলাম সুখ কিনতে কষ্টের শহরে, মাঝেমাঝে নিজেকে খুব উদভ্রান্ত মনে হয়, কিছুই ভাল লাগে না যখন শুনি আমরা প্রবাসীরা দেশে কষ্ট করে টাকা পাঠাই আর কিছু সুবিধাবাদী মানুষেরা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে, আমরা কষ্ট করে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা পাঠাই, দেশের সেই টাকা দিয়ে কেউ কেউ খিচুড়ি রান্না শিখতে যেতে চায় বিদেশে, অথচ প্রবাসীরা বিদেশের মাটিতে মারা গেলে তাদের লাশটা পর্যন্ত কেউ ফিরিয়ে নেই না, এই আক্ষেপ তাকে তাড়া করে ফিরে।

তবুও স্বপ্ন দেখি নতুন দিনের, আশায় বাধি ঘর, একদিন সব ঠিক হয়ে যাবে, আমিও দেশে যাব পরিবার পরিজন নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকবো। আর পেছনে পরে থাকবে সেই পরাহত প্রবাস জীবন৷

তাইফুর রহমাম তুষার (কাতার)

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg