শিরোনাম
গোয়ালন্দে গাইড-গ্রামার বাণিজ্যের অভিযোগ, শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন গোয়ালন্দে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯ মাস বয়সী শিশুর মৃত্যু, রাজবাড়ীতে এসএসসি, দাখিল ও সমমান পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় জেলা পরিষদের বিশেষ উদ্যোগ আহলাদিপুর হাইওয়ে থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন মাকসুদুর রহমান মুরাদ রাজবাড়ীতে লোডশেডিংয়ের ভয়াবহ রূপ, গরমে অতিষ্ঠ পরীক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ রাজবাড়ীর লোকোশেড এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক ৩ ঝিমিয়ে পড়েছে গোয়ালন্দ বাজারের প্রধান সড়ক উন্নয়ন কাজ, বাড়ছে জনদুর্ভোগ দৌলতদিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনবিরোধী অভিযানে ১০ জনের কারাদণ্ড, যন্ত্রপাতি জব্দ রাজবাড়ীর পাংশায় পৃথক অভিযানে ইয়াবা ও গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য খোলাবাড়িয়ার পরিত্যক্ত ঘর, আতঙ্কে এলাকাবাসী

গোয়ালন্দে গাইড-গ্রামার বাণিজ্যের অভিযোগ, শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার / ৩২ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

0Shares

স্টাফ রিপোর্টার
গোয়ালন্দ উপজেলায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গাইড ও গ্রামার বইকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক প্রভাবশালী বাণিজ্যচক্র এমন অভিযোগ উঠেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক নির্দিষ্ট প্রকাশনীর বই কিনতে শিক্ষার্থীদের পরোক্ষভাবে বাধ্য করছেন, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষে বা পরীক্ষায় ভালো ফল পেতে হলে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির গাইড ও গ্রামার বই অনুসরণ করতে হয়। অন্য বই থেকে উত্তর লিখলে নম্বর কম দেওয়া হয় বলেও তারা দাবি করে। এমনকি পরীক্ষার প্রশ্ন বা মডেল প্রশ্নও ওই নির্দিষ্ট গাইড থেকেই আসে বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয় গোয়ালন্দ নাজির উদ্দিন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, গোয়ালন্দ শহীদ স্মৃতি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সিলেবাস পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ইংরেজি বিষয়ের ক্ষেত্রে paragraph, letter বা application-এর নির্দিষ্ট নাম না দিয়ে শুধু পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানায়, এসব নম্বর আসলে নির্দিষ্ট একটি গ্রামার বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা, যা কিনতে তাদের বাধ্য হতে হচ্ছে।

কিছু শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে বই বিক্রির এই প্রক্রিয়া চলে। এতে প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্টদের কিছু আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। কেউ কেউ দাবি করেন, এই অর্থ দিয়ে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা হয়।

অভিভাবকদের অভিযোগ আরও কঠোর। তাদের মতে, শিক্ষাব্যবস্থা এখন ক্রমেই বাণিজ্যিক হয়ে উঠছে। বাজারে অন্যান্য গাইড বইয়ে বেশি ছাড় থাকলেও নির্দিষ্ট এই গাইড ও গ্রামার বই কিনতে হচ্ছে কম ছাড়ে। এর পেছনে শিক্ষকদের সঙ্গে প্রকাশনীর আর্থিক লেনদেন রয়েছে বলে তারা মনে করেন।

অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রকাশনীর প্রতিনিধি নিয়মিত বিভিন্ন বিদ্যালয়ে ঘুরে পরিস্থিতি তদারকি করেন। এদিকে, উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।
সরকারি গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজে গাইড বই নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যেই মতভেদ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে শিক্ষার্থীদের শেষ পর্যন্ত নির্দিষ্ট গাইডই কিনতে হচ্ছে, যার ফলে ইংরেজি ভাষার মৌলিক দক্ষতা অর্জনে তারা পিছিয়ে পড়ছে—এমন মত সংশ্লিষ্টদের।

উল্লেখ্য, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রাথমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে গাইড ও নোটবই প্রকাশ ও বিক্রি নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে সেই আইন অমান্য করে প্রকাশ্যে এসব বই বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ প্রপার হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা কোনো শিক্ষার্থীকে নির্দিষ্ট গাইড বা গ্রামার কিনতে বাধ্য করি না। তবে সিলেবাসে পৃষ্ঠাসংখ্যা উল্লেখ থাকায় শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট বই অনুসরণ করতে পারে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সরকারি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা দাবি করেন, বিষয়টি সহকারী শিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে হয়েছে।

গোয়ালন্দ কামরুল ইসলাম কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নজির হোসেন মোল্লা বলেন, আমি সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। আমি চাই শিক্ষার্থীরা মানসম্মত বই থেকে পড়াশোনা করুক। এ বিষয়ে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে এক প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি জানান, শিক্ষকদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সাধারণত কোম্পানি বা এজেন্ট পর্যায়েই হয়ে থাকে। তিনি নিজে শুধু বই সরবরাহের কাজ করেন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg