স্টাফ রিপোর্টার”রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের দেবগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শামসুন্নাহার পপির সঙ্গে অসদাচরণ ও হুমকির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে শিক্ষিকা জানান, তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানরত অবস্থায় অভিযুক্ত শরীফ সরদার হঠাৎ কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি মাতৃত্বকালীন ভাতার একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে চাপ দেন। শিক্ষিকা বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য কিছু সময় চাইলে তিনি তাতে রাজি না হয়ে দ্রুত স্বাক্ষরের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন এবং হুমকি দেন।
শিক্ষিকা আরও বলেন, কাগজটিতে অসংগতি থাকায় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সাভারের ভোটার হওয়ায় তিনি যাচাই ছাড়া স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি করেন এবং একপর্যায়ে লাঠি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তীতে অভিযুক্ত তাকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
অভিযুক্ত শরীফ সরদার মুঠোফোনে জানান, তিনি তার আত্মীয় শারমিনের মাতৃত্বকালীন ভাতার কাগজে স্বাক্ষর নিতে গেলে শিক্ষিকা তা না করে কাগজটি তার মুখের ওপর ছুড়ে মারেন এবং অশোভন আচরণ করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. লুৎফর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষিকা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস বলেন, একজন শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।