স্টাফ রিপোর্টার, গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের একটি অসহায় পরিবারের চারজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী সদস্যকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে সাড়া দিয়ে তাদের বাড়িতে ছুটে গেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাথী দাস।
মানবিক সহায়তা নিয়ে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে তিনি পরিবারটির পাশে দাঁড়ান।
শনিবার তিনি উজানচরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৈজদ্দিন মন্ডল পাড়া গ্রামে গিয়ে পরিবারটির দুরবস্থা প্রত্যক্ষ করেন। জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা পরিবারটির ঘরের ছিদ্রযুক্ত টিনের চাল মেরামতের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে দুই বান্ডিল ঢেউটিন প্রদান করেন। পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা দেন এবং স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট স্থাপনের আশ্বাস দেন।
পরিবারটির কর্তা আকবর মোল্লার বড় ছেলে আতিয়ার মোল্লা (৪২), পুত্রবধূ রহিমা বিবি (৩৯) এবং তাদের সন্তান আশা আক্তার (২০) ও বাদল মোল্লা (১৬) এই চারজনই বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। অত্যন্ত কষ্টকর পরিবেশে তাদের দিন কাটছে। ঘরে নেই পর্যাপ্ত আসবাবপত্র; একটি কাঠের চৌকিতে গাদাগাদি করে বসবাস করেন তারা। টিনের চাল ও বেড়ার বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র থাকায় বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে, সৃষ্টি হয় চরম দুর্ভোগ।
এ সময় উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলজার হোসেন মৃধা পরিবারটির জন্য ৫ হাজার টাকা সহায়তার ঘোষণা দেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে আকবর মোল্লা বলেন, বয়সের ভারে তিনি নিজেও কর্মক্ষম নন। ছোট ছেলের উপার্জনে কোনোরকমে সংসার চলে। চারজন প্রতিবন্ধী সদস্যের কষ্ট দেখে তিনি ভেঙে পড়েন। সরকারের সহযোগিতা পেলে কিছুটা স্বস্তি পেতেন বলেও জানান তিনি। ইউএনওর এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং আরও সরকারি সহায়তার দাবি জানান।
ইউএনও সাথী দাস বলেন, সংবাদ ও ভিডিও দেখে তিনি নিজেই পরিবারটির খোঁজ নিতে এসেছেন। আপাতত ঘর মেরামতের জন্য ঢেউটিন দেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই অর্থ সহায়তা প্রদান, স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ এবং পরিবারটির প্রতিবন্ধী সদস্যদের সরকারি ভাতার আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি সমাজের বিত্তবানদেরও এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।