শিরোনাম
শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ গোয়ালন্দে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এমপি কন্যা চৈতীর উদ্যোগে

শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ৩৪ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১

0Shares

স্টাফ রিপোর্টারঃ

১১ অক্টোবর চলছে ইলিশের প্রজনন মৌসুম। মা ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে ৪ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারা দেশে ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার। এ সময় ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, মজুত ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা মানছে না মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জেলেরা। বরং পেশাদার জেলের পাশাপাশি মৌসুমী জেলের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন প্রায় পাঁচ শতাধিক নৌকায় দিনরাত অবাধে ইলিশ নিধন চলছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রকাশ্যে বসছে ইলিশের হাট। চলছে অবাধ বেচাকেনা।

ইলিশ নিধন বন্ধে সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করলেও স্থানীয় প্রশাসনের তেমন নজরদারি নেই বললেই চলে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দু’একটি লোক দেখানো অভিযান চালানো হয়েছে।

জেলে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নদীতে ইলিশ আহরণে নজরদারি না করে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘাট এলাকাগুলোতে সাদা পোশাকে টহল দিচ্ছে। তারা জেলেদের আটক না করে ক্রেতাদের কাছ থেকে ইলিশ ছিনিয়ে নিচ্ছে। শিবালয়ের তেওতা ও জাফরগঞ্জ ঘাট এলাকায় পুলিশ সদস্যরা সাদা পোশাকে টহলের নামে ক্রেতাদের কাছ থেকে ইলিশ ছিনিয়ে নিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তেওতা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মতি’র ছেলে আনিসের দুটি ট্রলারে ইলিশ পারাপার করা হচ্ছে। এই আনিসই ক্রেতা-বিক্রেতাকে প্রশাসনের অভিযান ও পুলিশের টহলের খবর পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া স্পিডবোট চালদের সঙ্গে জেলেদের চুক্তি রয়েছে। নৌকা প্রতি সপ্তাহে ৪ হাজার টাকার চুক্তিতে জেলেদের তথ্য দিচ্ছে তারা। এমনকি প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান চালানোর সময় তেল কেনার অজুহাতে সময়ক্ষেপন করে স্পিডবোট চালকেরা। যাতে এই সময়ের মধ্যে জেলেরা সটকে পড়তে পারে। স্পিডবোটের ঘাটে জেলেদের নিজস্ব লোকও বসিয়ে রাখা হয়েছে। তারাও অভিযানের তথ্য সরবরাহ করছে।

শনিবার বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তেওতা ঘাট ও আলোকদিয়া চরে ইলিশের হাটে অবস্থান করে এই প্রতিবেদক। এ সময় ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়। এই সময়ে তিনবার অভিযানের খবর আসে জেলেদের কাছে। প্রথমে খবর আসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও অভিযানে আসছেন। শুরু হয় জেলেদের দৌঁড়ঝাপ। তারা জাল-নৌকা গুটিয়ে পালাতে শুরু করেন। ঘন্টা খানেক পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখে পুনরায় মাছ ধরা শুরু করেন জেলেরা। খবর আসে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। আবারও শুরু হয় দৌঁড়ঝাপ। শেষবার খবর আসে র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছে। এবার দুটি স্পিডবোট নিয়ে অভিযান চালাতে দেখা যায়। এ সময় জেলেদের একটি নৌকার পাশ দিয়ে গেলেও তাদের আটক করা হয়নি। আলোকদিয়া চরে ইলিশের হাটেও তারা অভিযান চালাননি। তবে রাতে র‌্যাব জানায়, ১০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়েছে ও দুটি ইঞ্জিনবাহিত নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। এ ছাড়াও ১০ হাজার মিটার জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

সরেজমিন পরিদর্শন করে ও জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল ব্যবহার করেই ইলিশ ধরা হচ্ছে। একেকটি জালের উচ্চতা ১৪ ফুট আর দৈর্ঘ্য আড়াই হাজার ফুট পর্যন্ত। ছোট বড় সব ধরণের ইলিশই ধরা পড়ে এসব জালে। তবে বেশিরভাগ ইলিশই মা ইলিশ। একেকটি ইলিশের ওজন সোয়া কেজি থেকে পৌণে দুই কেজি পর্যন্ত। এক কেজির উপরের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। আর ছোট ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজিতে। একেকজন জেলে দিনে প্রায় ৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মাছ ধরছেন। কারো কারো দিনে ৫০ হাজার টাকার মাছ ধরার অভিজ্ঞতাও রয়েছে।

এ বিষয়ে কথা হয় শিবালয় থানার ওসি ফিরোজ কবিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ইলিশ বন্ধে ব্যবস্থা নিবেন নৌ-পুলিশ ও ইউএনও। প্রয়োজনে তারা অভিযান চালাবেন। থানা পুলিশের কাজ তো ইলিশ ধরা বন্ধ করা নয়। ”

শিবালয় উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রফিকুল আলম বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আজকে দু’জনকে আটক করা হয়েছে।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। তারপরও কেন যেন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যাচ্ছি। আমরা অভিযান চালানোর আগেই জেলেরা কিভাবে যেন তথ্য পেয়ে যাচ্ছে। তবুও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ, র‌্যাবকে সঙ্গে নিয়ে আরও বড় পরিসরে ভিন্ন কৌশলে অভিযান চালাবো।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg