শিরোনাম
শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ গোয়ালন্দে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এমপি কন্যা চৈতীর উদ্যোগে

“আমার শৈশবের দূর্গাপুজা” “”””

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১০৮ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ অক্টোবর, ২০২১

0Shares

স্টাফ রিপোর্টারঃ

— জীবন চক্রবর্তী।
সহঃ শিক্ষক
গোয়ালন্দ প্রপার হাই স্কুল।

#আশ্বিন মাসে সাদা মেঘ যখন আকাশে ভেসে বেড়ায়,নদীর দু’কূল ছাপিয়ে সাদা রঙের কাশ ফুলগুলো যখন বাতাসে দোল খায়, শিউলী ফুলে মৌ মৌ গন্ধে দখিনা সমীরণ বলে যায়, প্রকৃতিতে শরৎ এসে গেছে। শারদীয় এমন প্রকৃতির রূপের সাথে পুজা বাড়ীতে ঢাকের জোড় কাঠির আওয়াজও বলে দেয় দুূর্গাপুজো এসে গেছে।

আমার ছোটবেলার দূর্গাপুজার কথা মনে হলে এখনো মনটা কেমন আনন্দে নেচে ওঠে। কি যে মধুর ছিল দূর্গাপুজার সেই দিনগুলো! বাবা আমাদের ভাইবোন সবার জন্য নতুন জামা কাপড় কিনে দিত। পুজার সেই নতুন পোশাকগুলো পুজাতে পরার আগে বার বার বের করে দেখতাম এবং নতুন পোশাকের গন্ধ নিতাম।
আমি পুজাতে প্রতি বছরই আমার মায়ের সাথে মাসি বাড়ীতে বেড়াতে যেতাম। বাণিবহ লক্ষ্মীনারায়ণ পুর আমার মাসি বাড়ী। ওখানে আমার সমবয়সি মেসোত ভাইদের সাথে আমরা সবাই মিলে এ পাড়া ও পাড়ায় মন্ডপে মন্ডপে পুজা দেখতে বেরুতাম। প্রায় বছরই লক্ষ্মীনারায়নপুর বিষ্ণু ডাক্তারের বাড়ীতে( বিশ্বাস বাড়ী) পুজার সময় যাত্রাপালা হত, আমার মেসেত ভাই বিধানদা দারুন যাত্রাভিনয় করতেন। মাসি বাড়ীর সকলে মিলে সারারাত যাত্রাপালা উপভোগ করতাম। টকটকে ফর্সা চেহারার অজিতদা ভয়ঙ্কর ভিলেনের পাট করতেন। সেই অজিতদা আজ আর বেঁচে নেই।

আমাদের গ্রামের বাড়ী কাটাখালি ছোট ভাকলা(ঠাকুরবাড়ি) হলেও আমাদের পার্শবর্তী যেসকল জায়গা দুর্গাপুজাগুলো হত তন্মধ্যে পাঁচুরিয়া, বরাট, ফকির বাড়ী এবং মহাশীলের বাড়ী। আমরা বন্ধুরা মিলে পুজোতে এসব জায়গা ঘুরে ঘুরে পুজা দেখতাম। পাঁচুরিয়া দুর্গামন্দিরে পুজার সময় খোলাবাড়ীয়া থেকে আসতেন সুবোধ শর্মা, মাইকে তিনি অনেক ভাব গাম্ভীর্য নিয়ে খুব সুন্দর করে চন্ডিপাঠ করতেন। বাড়ীতে বসে সবাই বলাবলি করতাম ঐ যে পাঁচুরিয়া দুর্গামন্দিরে চন্ডিপাঠ হচ্ছে। দূর থেকে এমন সুমধুর পাঠ শুনে মনটা যেন পুজো পুজো আনন্দে মেতে উঠত। পাঁচুরিয়া মন্দিরটি তখনো জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। দূর্গা মন্দিরের পেছনেই নব জাগরন অপেরা নামক যাত্রাদলের অভিনেতারা অস্থায়ী টিনের ছাপড়া ঘরে রেহার্সল করতেন। অভিনেতাদের গান অভিনয় দেখে মনে মনে ভাবতাম ইস!এমন ভাবে যদি আমিও অভিনয় করতে পারতাম, জীবনটা স্বার্থক হতো। প্রায়ই স্কুল পালিয়ে আমি রাজ্জাক রতন, ইদ্রিস, হাফিজুল দুপুরে আসতাম পাঁচুরিয়ার সেই যাত্রার রেহার্সল দেখতে। রেহার্সল দেখার পর দূর্গা মন্দিরের পাশে নিখিলদার চায়ের দোকানে গিয়ে পাউরুটি এবং দুধ চা খেতাম, দুই টাকা দিয়ে একটা পাউরুটি কিনে বন্ধুরা ভাগ করে দুধ চা দিয়ে ভিজিয়ে ভিজিয়ে খেতাম। আজ নিখিলদাও নেই সেই চায়ের দোকানও নেই।
তখনো আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ আসেনি। তাই রাতের বেলায় হ্যাচাক লাইট জ্বালিয়ে পুজা বাড়ীতে আরতি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হত। আমার বাল্যবন্ধু বৃন্দাবন, শামীম,অানিচ, খোকন ,রফিক, রাতে জানালার কাছে এসে আমাকে চুপিসারে আরতি দেখার জন্য ডাক দিত। বাবার ভয়ে আমি রাতে বেরুতে পারতাম না, তাই কোনমতে আমার পড়ার ঘরের দরজাটা একটু টেনে দিয়ে ওদের সাথে রাতের আঁধারে পাটকাঠির আলা জ্বালিয়ে মহাশীলের বাড়ীতে আরতি দেখতে যেতাম। শীলবাড়ীর গনেষদা দারুন আরতি করতেন। একে একে ১২ টা ধুপতি নিয়ে ঢাকের তালে তালে আরতি করতেন। বন্ধুরা মিলে ওখানে কিছু সময় কাটিয়ে তারপর আবার পাশের গ্রামে মালি পাড়ায় প্রেমচরন ফকির বাড়িতে যেতাম পুজার আরতি দেখতে। সেখানেও আরতি প্রতিযোগিতা হত। একবার আরতি প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করে আমি একটি কাঁচের জগও পেয়েছিলাম। পুজার মধ্যে ফকির বাড়ীতে একবার “কংশ বধ” কৃষ্ণযাত্রা পালা হয়েছিল। আমাদের গ্রামের নির্মলদা কংশ সাজত আর পাশের গ্রামের অান্ধার মানিকের কোমলদা সাজতেন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণকে বধ করার জন্য নির্মলদা কংশ সেজে স্টেজে এসে হুংকার দিয়ে তরবারির যে কসরত দেখাতেন ; আমি তো ভয় পেয়ে প্রায় কেঁদেই ফেলেছিলাম।

পুজার সেই আনন্দঘন মুহুর্তগুলো আজও ভুলতে পারি না। নতুন পোশাক পরে অষ্টমী নবমীর দিন বন্ধুদের নিয়ে কতই না মজা করেছি; যা বলে শেষ করা যাবে না। পুজাতে এ বাড়ী ও বাড়ী বেড়াতে যাওয়া, বন্ধুদের সাথে নতুন পোশাকে চঞ্চল প্রজাপতির মত ঘোরাফেরা সেসব মধুময় দিন আর কখনোই ফিরে পাব না। বিজয় দশমিতে পুজার মেলাতে গোয়ালন্দ বাজারে এসে একবার আমি মায়ের কাছ থেকে হারিয়ে গিয়েছিলাম,আমি সে কি কাঁন্নাটাই যে করেছিলাম সেদিন! অবশ্য বাবার পরিচয় দেওয়ায় ( স্বর্গীয় ডাঃ বরেন চক্রবর্তী) বাবার সু-পরিচিত এক মুরব্বি আমাকে গোয়ালন্দ বাবার চেম্বারে (গোয়ালন্দ নূর ফার্ম্মেসি) এনে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
দিন চলে যায় কিন্ত কথাগুলো স্মৃতি হয়ে ভেসে ওঠে মনের আয়নায়। আজ আমিও বাবা হয়েছি, আমার সন্তানেরাও দুর্গাপুজাতে ঠিক আমারি মত করে পুজার আনন্দে মেতে ওঠে , কিন্ত এখনকার পুজার আনন্দ আর আমাদের সময়ের পুজার আনন্দ উৎসবটা অনেক তফাৎ। প্রতি বছর পুজা এলেই আমি যেন হারিয়ে যাই আমার মধুর শৈশবের দিনগুলোতে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg