শিরোনাম
গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ গোয়ালন্দে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এমপি কন্যা চৈতীর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে শেষ হলো রাজবাড়ী সার্কেল আয়োজিত ইসলামিক কুইজ প্রতিযোগিতা ২০২১ করোনা ভাইরাস থেকে পরিত্রাণের জন্য রাজবাড়ী সার্কেলের বিশেষ দোয়া মাহফিল

করোনা ও মধ্যবিত্তের স্বপ্নভঙ্গ।

রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ ডেস্ক / ১৫১ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২০

0Shares

সাজু বিশ্বাস।।

কিছুদিন আগে, যখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল সেই সময় একদিন একজন মধ্য বয়সী মহিলা বাইরে থেকে এসে সোজা আমার টেবিলের সামনে দাঁড়ায়। হাতে একটা একাউন্ট ওপেনিং ফরম। মহিলার চোখে বেশ বড় ঢিলা ফ্রেমের চশমা, চুলের সামনের দিকে কয়েক গোছা সাদা হয়ে এসেছ। মুখটা বেশ শুকনো।
আমি আমার কাজের দিকে চোখ রেখেই বললাম, বলেন, আপনার জন্য কি করব।
তিনি বেশ কাতর স্বরে বললেন, আপনি ছাড়া আমাদের এখানে আর কে আছে বলেন!

আমি পরিচিত গলার স্বর শুনে তরিত তার মুখের দিকে তাকালাম! প্রথমে চিনতে কষ্ট হয়, কতগুলো বছর চলে গেছে মাঝখান দিয়ে! একটি স্বলজ্জ সুন্দরী গিন্নী-বান্নি বউ হারিয়ে গেছে পেরেশানি মাখা চেহারার তলায়। আমি কিছুক্ষণ চোখ পিটপিট করে চিনতে পারলাম। আপনার ছোট্ট মেয়েটা কেমন আছে!

ভালো, সে সরকারি গার্লস স্কুলে এইটে পড়ে এখন। তার রেজাল্ট ভালো। সে খুবই মেধাবী।
বড় মেয়েটা ইউনিভার্সিটিতে ফাস্ট ইয়ার। এইকথা বলে থামলো মহিলা।

বেশ কিছু বছর হঠাৎ আমার সামনে দিয়ে উধাও হয়ে গেছে। ছোট্ট মেয়েটির জন্মের সময় ওর মা যখন জানতে পারলো দ্বিতীয় সন্তানটিও আরেকটি মেয়ে হতে যাচ্ছে, সেকি কান্না তার! কান্না থামতেই চায় না। আসেপাশে ভাইবোন আত্মীয় স্বজন সবার ঘরে ছেলে আছে, সে কিনা কেবল দুটো মেয়ে সন্তানেরই মা হবে! এটা কিছুতেই মানতে পারছিল না সে। সেই ছোট্ট অনাকাঙ্ক্ষিত মেয়েটিই এখন তার সবচেয়ে বড় স্বপ্নের জায়গা! শুনে মনটা ভরে গেল।

মহিলা ফিসফিস করে বলতে লাগলো, আপনি তো জানেন মেয়ে দুটি ছাড়া আমার আর কিছু নেই। আপনার দাদার সেই অল্প টাকার চাকরি। কিছু কিছু করে জমিয়ে রেখে দুই লাখ টাকা করেছি। ফিক্সড করতে চাই, এই টাকার যে লাভ পাবো তা দিয়ে মাসে মাসে বড় মেয়েটার পড়াশুনার খরচের কিছু জোগান হবে। ওর পড়া শেষ হলে টাকাটা ছোট মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য রাখবো, তাকে ডাক্তার বানাতে চাই।

আমি অত্যন্ত খুশি আর চমৎকৃত হলাম।
মহিলার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে একটি দোকানে একটা ছোট্ট চাকরি করেন। বাচ্চারা যখন ছোট ছিল, তাদের পিছনে খরচ কম হতো, সেই সময় একটু একটু করে সংসার খরচ বাঁচিয়ে, গ্রামের জমিটুকু বিক্রি করে সব মিলিয়ে শহরের উপরে তিনি একটা থাকার জায়গাও কিনেছিলেন। এরপর আবার মেয়েদের লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের ভবিষ্যৎ খরচের টাকাও জমিয়েছেন। চাকরি মোটে এটুকুই। মাসে হয়তো আট নয় হাজার টাকা পান। তারমধ্যে বাসা ভাড়া, দৈনন্দিন খরচ, বাচ্চাদের পড়াশোনার খরচ সবকিছু আছে।

মাসের বেতনের ঐ টাকা কয়টিই সম্বল।
তবে তাতে টেনেটুনে দিন চলে যায়। কোনোদিন কারো কাছে হাত পাততে হয়নি দুবেলা খাবার জন্য।
মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকেই সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রায় বন্ধ। মালিক বড় জোর মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করবে। কিন্তু এর পরের দিনগুলো কেমনে চলবে তাদের! এদিকে বাজারে জোগান ঠিকমতো নেই বলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামও উর্ধ্বমুখী হওয়া শুরু করবে আস্তে আস্তে।

এই মানুষগুলো কোথায় যাবে তাহলে! এই মানুষগুলোর একটু একটু করে জমানো স্বপ্নের উপরে সহসাই বড় থাবা বসিয়ে দিয়েছে করোনার লকডাউন। এরা বাইরে এসে রাস্তায় লাইনে দাঁড়িয়ে হাত পেতে কারো কাছ থেকে সাহায্যও নিতে পারবে না।

এই যে সরকার এতগুলো একশন প্ল্যান, প্রণোদনা, দশ টাকার চাল কতকিছু ঘোষণা করছে। এর কোনো এক টুকরো সুবিধা কি এই মাঝামাঝি আটকে পড়া মানুষগুলোর জন্য আছে? চোখ বুঁজে বলতে পারি, — নেই। মহামারী পরবর্তী অর্থনীতি চাঙা করার জন্যই বেশির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নগদ খাদ্য হিসেবে যে সব চাল ডাল সরকারি ভান্ডার থেকে আসছে তা বেশিরভাগই হতদরিদ্রদের জন্য। তার তিনভাগের এক ভাগই আবার আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা চুরি ছ্যাছড়ামি করে হাতিয়ে নিতে চেষ্টার ত্রুটি করছে না।

শুধুমাত্র প্রশাসনের কাছে ফোন করলে খাবার পৌঁছে যাবে ঘরে, এমন একটি মৌখিক নির্দেশনামা জারি করেই এই কিছু না চাইতে পারা মানুষগুলোর প্রতি দ্বায়িত্ব শেষ করা হয়েছে। কিন্তু দশ কেজি চাল, পাঁচ কেজি আলু তিন কেজি তেল এক কেজি ডাল আর এক কেজি পেঁয়াজে কতদিন চলবে একটি পরিবারের! এ হিসেব কেউ জানে না। কতজনই বা ফোন করে প্রশাসনের কাছে চাইতে যাওয়ার মতো সাহস জোগাড় করে উঠতে পারবে! জানিনা।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg