রাজবাড়ীতে পদ্মার ভাঙ্গনে হুমকির মুখে সরকারি বেসরকারি অর্ধশতাধিক স্থাপনা

সম্পাদকীয় | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৮৫ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১

0Shares

রাজবাড়ী প্রতিনিধি।।

পদ্মার তীব্র স্রোতে রাজবাড়ী সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের সোনাকান্দর এলাকায় শনিবার (৭ আগস্ট) ভোর থেকে ভাঙ্গন শুর হয়। এরফলে গোদার বাজার পয়েন্ট থেকে ২০০ গজ দূরে প্রায় ৪০ মিটার সিসি ব্লক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকা অবস্থায় এই ভাঙ্গনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে চর ধুঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং বসতভিটা সহ শতাধিক সরকারি বেসরকারি স্থাপনা।

এদিকে ভাঙ্গনের খবরে তৎক্ষণাৎ ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী। তিনি ভাঙ্গন প্রতিরোধে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের জুলাই মাসে ৭৬ কোটি টাকা বায়ে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধের ডান তীর প্রতিরক্ষার (১ম সংশোধিত) প্রকল্পের আড়াই কিলোমিটার অংশের ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে পাঁচটি প্যাকেজে কাজ শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু তীর প্রতিরক্ষা কাজের ব্লক বসানোর কয়েক মাস না যেতেই দফায় দফায় নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে এসব ব্লক। গত ২৭ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত গোদার বাজারের এনজিএল ইট ভাটার পূর্ব ও পশ্চিম পাশের পাঁচ থেকে সাতটি স্থানের ব্লক ধসে গেছে।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে আরো জানা যায়, ভাঙন রোধে ২০১৮ সালের জুন মাসে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বরাটে তিন ও মিজানপুরে দেড় কিলোমিটারসহ সাড়ে চার কিলোমিটার অংশের কাজ শুরু হয়। সব মিলিয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় হয় ৪৫২ কোটি টাকা।

আজ (৮ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ো দেখা যায়, অনবরত ভাঙ্গনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে রাজবাড়ী শহর রক্ষা বাঁধ। এ সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে সিসি ব্লক ও বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করতে দেখা যায়।

চরধুঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দোলেনা সুলতানা জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ও মালামাল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে তবে চেয়ার-টেবিল ও বেঞ্চ এখন সরিয়ে নেওয়া হয়নি।

স্কুলটির সহকারী শিক্ষক কহিনুর আক্তার বলেন, পদ্মার ক্রমাগত ভাঙ্গনের ফলে স্কুলটি এখন হুমকির মুখে। ভাঙন রোধেও কাজও হচ্ছে ধীর গতিতে। বাচ্চাদের এ প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে দ্রুত কাজ শেষ করা প্রয়োজন।

আর স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তুলে বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতায় বার বার তীর রক্ষা বাঁধে ধস হচ্ছে। এখন তাদের বসতভিটা,ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে ভাঙলে বাঁধ থাকবে না। তাই দ্রুত ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান তারা।

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, নদীর গতিপথ এই বর্ষা মৌসুমে পরিবর্তন হওয়ায় ভাঙন শুরু হয়েছে। তবে ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ও জিও টিউব ফেলা হচ্ছে। পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় নিচ থেকে ডাম্পিং করা মালামাল সরে যাওয়ায় পিচিং করা ব্লক ধসে যাচ্ছে। শুকনো মৌসুমে ভাল ভাবে জরিপ করে ভাঙন রোধে আবার নতুন করে কাজ শুরু হবে।

ভাঙ্গনের বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল আহাদ বলেন, গতকাল ভোর ৬টার দিকে হঠাৎ ভাঙন শুরু হয়। ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করতে জরুরি ভিত্তিতে বালু ভর্তি জিওব্যাগ এবং টিউব ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। এখনো কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে, পদ্মায় অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে আগামীকাল (৯ আগস্ট) রাজবাড়ী নদী শাসন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রালয়ের উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমের রাজবাড়ী সফরের কথা রয়েছে। এর আগে ৩রা আগস্ট তার আসার কথা থাকলেও সেটি অনিবার্য কারণ বশত বাতিল করা হয়।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg