শিরোনাম
শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ গোয়ালন্দে অসহায় মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ এমপি কন্যা চৈতীর উদ্যোগে

ব্যাংকে পড়ে রয়েছে ভিক্ষুক পুর্নবাসন প্রকল্পের টাকা.কোটি টাকায়ও পুনর্বাসিত হয়নি কোন ভিক্ষুক

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১৫৮ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১

0Shares

মোঃ সজল আলী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি, ১৪ জুন
মানিকগঞ্জের ভিক্ষুক পুর্নবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য প্রায় আড়াই বছর আগে সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমান টাকা চাঁদা তুলে তহবিল গঠন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ পাওয়ার পরেও এখনো সম্পন্ন হয়নি ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কমংসংস্থান কার্যক্রম। তহবিলের অল্প কিছু টাকা ভিক্ষুকদের মাঝে বিতরণ করা হলেও অধিকাংশ টাকাই এখনো পড়ে রয়েছে ব্যাংকে। সংশ্লিষ্ঠদের অবহেলায় সরকারের মহান কল্যানমুখী উদ্যোগটি ব্যর্থ হতে বসেছে বলে জানিয়েছেন ভিক্ষুকদের কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিরা। এদিকে দীর্ঘদিনে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় চাঁপা ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের জন্য চাঁদা দানকারী সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।
জানা যায়, জেলার ভিক্ষুকদের পুনর্বাসিত করে জেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করতে ২০১৮ সালের শুরুতে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসককে নির্দেশে দেন। ওই নির্দেশ মোতাবেক জেলা প্রশাসক সভাপতি এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালককে সদস্য সচিব করে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসুচী বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির তহবিলে জেলার সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমান টাকা চাঁদা বাবদ ৬২,৬৯,৬৯৩/- (বাষট্টি লাখ ঊনসত্তর হাজার ছয় শত তিরানব্বই টাকা), প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ১৫ লাখ টাকা ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ১৮ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন তহবিলে জমাকৃত ওই টাকা দিয়ে জেলার হত-দরিদ্র ভিক্ষুকদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান করে দেয়ার কথা থাকলেও আড়াই বছরেও সম্পন্ন হয়নি সরকারের এই মহান কার্যক্রম।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত ১৫ লাখ টাকা হতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ লাখ টাকা, ঘিওর উপজেলায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, সিংগাইর উপজেলায় ৩ লাখ টাকা, দৌলতপুর উপজেলায় ২ লাখ টাকা, শিবালয় উপজেলায় ২ লাখ, হরিরামপুর উপজেলায় ২ লাখ টাকা ও সাটুরিয়া উপজেলায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ১৮ লাখ টাকা হতে মানিকগঞ্জ পৌরসভায় ১ লাখ টাকা, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা, ঘিওর উপজেলায় ১ লাখ টাকা, সিংগাইর উপজেলায় ৫ লাখ টাকা, দৌলতপুর উপজেলায় ১ লাখ টাকা, শিবালয় উপজেলায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা, হরিরামপুর উপজেলায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও সাটুরিয়া উপজেলায় ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।

উপজেলা ভিত্তিক বরাদ্দকৃত এসব টাকা থেকে ঘিওর উপজেলা সমাজসেবা অফিস ১ লাখ টাকা ১১ জনের মাঝে বিতরণ করেছে। দৌলতপুরে ৬ জনকে ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছে এবং সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমান টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ পাওয়া মোট থেকে ৭,৭৯,০৭৫ টাকা ব্যাংকে জমা রয়েছে। সিংগাইরে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত ৮ লাখ টাকা হতে ১০ জনকে ১ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় তিন জন ভিক্ষুক বাছাই করে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। শিবালয় উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে ১৮ জনকে ছাগল কিনে দেওয়া হয়েছে এবং ইউএনও অফিসের টাকা ইউএনও’র ফান্ডে জমা রয়েছে। সাটুরিয়া ও হরিরামপুরে ভিক্ষুক যাচাই বাছাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং বরাদ্দকৃত টাকা এখনো বিতরণ করা হয়নি।

তবে ভিক্ষুক পুর্নবাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান প্রকল্পের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে প্রাপ্ত ১৫ লাখ টাকা ও সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে বরাদ্দ পাওয়ার ১৮ লাখ টাকা ব্যতিত জেলার সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একদিনের বেতনের সমপরিমাণ টাকা চাঁদা বাবদ ৬২,৬৯,৬৯৩ টাকার কোন হদিস পাওয়া যায়নি।

জেলায় ভিক্ষুকদের কল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিরা বলছেন সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় সরকারের কল্যাণমুখী মহৎ এ কার্যক্রমটি ব্যর্থ হতে বসেছে। সরকারের মহান কল্যাণমুখী এ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করতে ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসুচী বাস্তবায়ন কমিটি সদস্যদের দ্রুত কার্যক্রম সম্পন্ন করার দাবী জানিয়েছেন তারা।

তবে বিভিন্ন উপজেলায় সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সাথে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, যে সকল ভিক্ষুকদের মাঝে অর্থ অথবা ছাগল দেওয়া হয়েছে সেটা ভিক্ষুকের পুনর্বাসনের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এত অল্প পরিমাণ টাকা দিয়ে তাদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব নয়।

সুবিধাভোগী একাধিক ভিক্ষুক জানান, ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করে অন্য কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে যে পরিমাণ অর্থ বা সুবিধা আমাদের দেওয়া হয়েছে সেই টাকা দিয়ে কোনভাবেই অন্য কোন কাজ শুরু করা সম্ভব না। বাধ্য হয়েই আমাদের পুনরায় ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক, ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসুচী বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব জোয়ারদার মোহাম্মদ মহিউদ্দীন জানিয়েছেন বিষয়টি সর্ম্পকে তার জানা নেই। তবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ১৮ লাখ টাকা দেয়ার কথা স্বীকার করে কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলতে বলেন। প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য উপজেলার অফিসারদের তাগিদ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক, ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসুচী বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এস এম ফেরদৌস বলেন, করোনার কারণে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তবে ভিক্ষুকদের তালিকা যাচাই বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। করোনাকালীন দুর্যোগ শেষ হলেই প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হবে।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg