শিরোনাম
গোয়ালন্দে একদিনে নারীসহ ১৩ আসামি গ্রেপ্তার পাটুরিয়া ঘাটে গাড়িসহ ফেরি ডুবি- এক ঘণ্টার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও হলেন বাবলী- শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান

পুলিশের এএসআই সৌমেনের ছোড়া গুলিতে নিহতদের লাশ দাফন সম্পন্ন

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ২৮৩ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৪ জুন, ২০২১

0Shares

মোশারফ হোসেন কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ার কাস্টমমোড়ের রোববার (১৩ জুন) সকালে ১১ টায় পরকীয়া প্রেমের ঘটনায় নিহত নারী,শিশুসহ তিনজনের লাশ ময়নাতদন্ত শেষে হস্তান্তর করা হয়েছে। আজ সোমবার সকালে লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়। পরে নিহত আসমা খাতুন, তার শিশু পুত্র রবিন এবং প্রেমিক শাকিল খানের দাফন সম্পন্ন করে স্বজনরা।

নিহতদের পারিবার ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার বাদ জোহর নিহত আসমা খাতুন ও
তাঁর শিশু পুত্র রবিনের জানাজা শেষে নিজ গ্রাম কুমারখালীর বাগুলাট ইউনিয়নের নাতুড়িয়া কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। অন্যদিকে নিহত শাকিল খানের নিজ গ্রাম একই উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের সাঁওতা কারিগর পাড়া গ্রামের মেছের উদ্দিন দারুল উলুম কওমীয়া মাদ্রাসায় জানাজা শেষে সোমবার
দুপুর ১২ টায় সাঁওতা কারিগর পাড়া গোরস্থানে দাফন করা হয়।

লাশ দাফন শেষে নিহত আসমার ভাই বাবুল শেখ বলেন, ‘ দেশে পুলিশ এখন বড় সন্ত্রাসী। সরকার আর্মস (অস্ত্র) দিয়েছে জনগণের নিরাপত্তার জন্য। সেই আর্মস যদি জনগণকে হত্যায় ব্যবহত হয়। তাহলে জনগণ কি করবে? তিনি আরো বলেন, সৌমেন আমার বোন ও ভাগ্নেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করেছে। প্রচলিত আইনে সুষ্ঠ বিচার চাই।’

নাতুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি মগরোব (৩২) বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ বেপরোয়া হয়ে গেছে। তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে। দিনে দুপুরে গুলি করে তিনটা খুন মানা যায়না। তিনি আরো বলেন, এধরনের খুনিদের রাস্তায় প্রকাশ্যে ফাঁসি হওয়া উচিত।

 

চাপড়া ইউনিয়নের কবুরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, ইসলামে পরকীয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সমাজে ধর্মীয় অনুশাষণ না থাকায় পরকীয়া বাড়ছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। তিনি আরো বলেন, সরকারের বিচক্ষণ বাহিনীর সদস্য প্রকাশ্যে দিবালোকে এমন হত্যাকান্ড ঘটাতে পারেনা। আইন সবার প্রতি সমান হওয়া উচিৎ।

নাতুরিয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ বলেন, একজন মানুষ অপরাধ করতে পারে। তাই বলে নির্মমভাবে হত্যা করা ঠিক নয়। তিনি আরো বলেন, নিষ্পাপ শিশুটির কি অপরাধ ছিল? তাকে কেন এমন হত্যা? অবশ্যয় এমন হত্যার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

 

আসমার বাবা আমির শেখ বলেন, সৌমেন পরিচয় গোপন করে তিন বছর আগে আমার মেয়েকে বিয়ে করেছে। হত্যার পর জানলাম সৌমেন হিন্দু। তিনি আরো বলেন, এমন হত্যা কোন ভাবেই বাবা হিসেবে মানতে পারছিনা। সৌমেনের ফাঁসি চাই।

অপরদিকে নিহত শাকিলের বাবা মিজবার বলেন, আমার ছেলের কোন দোষ ছিলোনা। কেন তাকে হত্যা করা হল? দেশের পুলিশ মাজায় অস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসীর মত আচরণ করে। এমন আচরণ বন্ধ করতে হবে এবং শাকিল হত্যার সুষ্ঠ বিচার করতে হবে।

চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হাসান রিন্টু বলেন, পুলিশের গুলিতে জনগণ মারা যাবে, তা কোন ভাবেই কাম্য নয়। পুলিশ বাহিনীকে আরো সচেতন হতে হবে। তিনি আরো বলেন, ট্রিপল মার্ডার ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার প্রত্যাশা করি।

কুমারখালী নাগরিক কমিটির সভাপতি আকরাম হোসেন বলেন, পুলিশ হোক আর পাবলিক হোক, কেউ এভাবে অস্ত্র নিয়ে এসে দিনদুপুরে কাউকে হত্যা করতে পারেনা। তিনি বলেন, একজন পুলিশ এভাবে অস্ত্র ব্যবহার করতে পারেনা। কারো সাথে ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে। তাই বলে একটা শিশুকে এমন হত্যা কোনভাবেই কাম্য নয়।

তিনি আরো বলেন, কোন হত্যায় আমরা কাম্য করিনা। এটাও নয়, যদিও তাকে (সৌমেন) বরখস্ত করা হয়েছে। তবে সুষ্ঠ তদন্ত হওয়া দরকার।

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কামরুজ্জামান তালুকদার বলেন, কুষ্টিয়ায় আলোচিত ট্রিপল হত্যার নিহতদের বাড়ি কুমারখালীতে। সকালে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবার লাশ দাফনের বিষয় নিশ্চিত করেছেন।

দেশে পুলিশ এখন বড় সন্ত্রাসী বাহিনী, নিহতের ভাইয়ের এমন বক্তব্যের বিষয়ে ওসি বলেন, হয়তো ক্ষোভে নিহতের ভাই এমন কথা বলতে পারেন। তবে প্রকৃতপক্ষে পুলিশ জনকল্যাণ ও জনগণের নিরাপত্তায় কাজ করছে। পুলিশ জনগণের বন্ধু।
কুষ্টিয়ায় আলোচিত তিন খুনের আসামি এএসআই সৌমেন রায়কে কুষ্টিয়া কোর্টে আনা হয়। ১৪ জুন দুপুর ১টা ১০ মিনিটে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের ডিবি কার্যালয় থেকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত চীফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রে মোঃ রেজাউল করিমের আদালতে নেয়া হয় । মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ওসি তদন্ত নিশিকান্ত সরকার জানান, আসামি সৌমেনকে ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দির নেয়া হয়।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg