শিরোনাম
আইনপ্রণেতা হয়ে নিজেই আইন লঙ্ঘন করলেন এমপি মমতাজ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ গোয়ালন্দ সরকারি হাসপাতালে মসজিদে জমি দান করায় বাবাকে হাতুড়িপেটা করে নির্মমভাবে হত্যা গোয়ালন্দে ফেন্সিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে রাজনীতিকে বিদায় জানালেন ছাত্রলীগ নেতা দুধ বিক্রি না করায় কৃষককে পেটালেন আ.লীগ নেতা ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষ ভাড়া নিয়ে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম ! ব্যাহত হচ্ছে স্কুলের পাঠদান। মানিকগঞ্জে পাসপোর্ট করতে এসে দালালসহ রোহিঙ্গা নারী আটক মানিকগঞ্জে হেরোইনসহ ৫ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

অস্ট্রেলিয়ায় বাঙালি, পর্ব- ১

নিউজ ডেস্ক | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ২৮০ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২০

0Shares

শাহানা চৌধুরী।।

বিশ্ব মানচিত্রে অস্ট্রেলিয়া একটা দ্বীপ রাষ্ট্র। পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার বছর আগ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় আদিবাসীদের বসবাস । সতেরো’শ বছরের আগে পর্যন্ত এ দেশটি বহির্বিশ্বের কাছে অজানা ছিল।

১৭৮৮ সালে ব্রিটিশ অধিবাসীদের মধ্যে বেশিরভাগই সাজাপ্রাপ্ত নির্বাসিত আসামিরা এই দেশে এসে বসবাস করতে শুরু করেন। ১৯ শতকের মাঝামাঝিতে সোনার খনির সন্ধানে বৃটেনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অস্ট্রেলিয়ায় আসতে শুরু করেন।

দেশটিতে শ্বেতাঙ্গ অভিবাসন নীতি চালু ছিল বহুকাল। যার ফলশ্রুতিতে অদিবাসীদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল মোট জনগোষ্ঠীর মাত্র তিন শতাংশ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রেলিয়া শ্বেতাঙ্গ অভিবাসন নীতি থেকে বেরিয়ে আসে, আর তখন ধীরে ধীরে অন্যান্য দেশের অভিবাসীরাও আসতে শুরু করে। ২০০৮ সালে আদিবাসীদের উপর নির্যাতনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয় সরকার।

১৯৮৬ সাল থেকে শাসনতান্ত্রিকভাবে সার্বভৌম হলেও বৃটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এখনও অস্ট্রেলিয়ার রাষ্ট্রপ্রধান। তবে ১৯৯৯ সালের গণভোটে ৫৫ শতাংশ জনগণ আলাদা প্রজাতন্ত্রের দাবিতে ভোট দেন। যার কার্যক্রম এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

অস্ট্রেলিয়ার ভৌগলিক অবস্থান:

অস্ট্রেলিয়া আমাদের গ্রহের দক্ষিণ পূর্ব গোলার্ধের ৭,৬৫৯,৮৬১ কি মি আয়তনের গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলের একটি মহাদেশ। কাছের তাসমানিয়া দ্বীপ নিয়ে কমনওয়েলথ অফ অস্ট্রেলিয়া গঠিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কিন্তু ষষ্ঠ বৃহত্তম দেশ। এর রাজধানী ক্যানবেরা। সিডনি এ দেশের বৃহত্তম শহর। এর জনসংখ্যা আড়াই কোটি উপরে। অস্ট্রেলিয়ার অধিবাসীদের নাম অস্ট্রেলীয়।

মহাদেশটি একটি মহাদেশীয় সোপান নিয়ে গঠিত। এই সোপানটি একাধিক অগভীর সমুদ্র দ্বারা নিমজ্জিত। ইন্দো অস্ট্রেলিয়ান পাতের উপর এই মহাদেশটি অবস্থিত। সেজন্যে এটি পৃথিবীর একমাত্র মহাদেশ যেখানে কোনো সক্রিয় আগ্নেয়গিরি নেই।

অস্ট্রেলিয়ার স্বাধীনতা ও সরকার:

নিউ সাউথ ওয়েলস উপনিবেশ হিসেবে ১৭৮৮ সালে ২৬ জানুয়ারি ১১ টি জাহাজে করে প্রথম নৌবহরে ৯৯২ জন নারী এবং ৫৮৬ জন পুরুষ এই দ্বীপ মহাদেশের সিডনিতে নোঙর করে যার মধ্যে ৭৭৮ জনই ছিল দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত। সেই থেকে ২৬ জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

গভর্নর ফিলিপ ৭ ফেব্রুয়ারি ১৭৮৮ সালে অস্ট্রেলিয়াকে ব্রিটিশ উপনিবেশ ঘোষণা করেন। তিনি ছিলেন একজন সুশাসক জনগনের কাছে তার গ্রহনযোগ্যতা ছিল আকাশচুম্বি। তার ইচ্ছে ছিল আদিবাসীদের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা, দণ্ডপ্রাপ্ত অভিবাসীদের সংস্কার করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা।

১৮৫০ এর দিকে অস্ট্রেলিয়ায় স্বর্ণখনি আবিষ্কৃত হয়। ১৮৫৪ সালে খনির লাইসেন্স ফি চালু করার বিরুদ্ধে ইউরোপের বিদ্রোহ ছিল প্রথম গণ বিদ্রোহ। ১৮৫৫ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে ৬ টি উপনিবেশ ও আলাদা সরকার ব্যবস্থা গঠিত হয়।

Advance Australia Fair-গানটি অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে পরিচিত।
উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভ নিয়ে দুই কক্ষ বিশিষ্ট আইন সভা গঠিত হয়। ১৯০১ সালের পহেলা জানুয়ারি অস্ট্রেলিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে ৬ টি উপনিবেশ নিয়ে ফেডারেশন গঠন করে যার নাম হয় কমনওয়েলথ অব অস্ট্রেলিয়া।
(চলবে..)

লেখক, বহু গ্রন্থের প্রণেতা, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী।

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg