শিরোনাম
এক ঘণ্টার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলার ইউএনও হলেন বাবলী- শিবালয়ে নিষিদ্ধ সময়ে যমুনার চরে দিনব্যাপী ইলিশের হাট দৌলতদিয়ার যৌনপল্লিতে যৌনকর্মীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার- গোয়ালন্দে কৃষকদের বাধা উপেক্ষা করে প্রভাবশালী মহল মরাপদ্মায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে মাটি উত্তোলন করছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক বহিস্কার গোয়ালন্দে ছাত্রলীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আটক- গোয়ালন্দে ৭০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই জন আটক গোয়ালন্দ প্রবাসী ফোরামের উদ্যোগে অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান রাজবাড়ীতে শেখ হাসিনার নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে সম্মানি বিতরণ অবৈধ ড্রেজার ব্যবসায়ীকে জরিমানা, ৭টি ড্রেজার জব্দ

শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সংকট।

রনি মন্ডল | রাজবাড়ী টেলিগ্রাফ / ১১৫ বার পড়া হয়েছে
সর্বশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০২১

0Shares

বাংলাদেশসহ পুরো পৃথিবী বর্তমানে সংকটময় সময় অতিবাহিত করছে। এই সংকর দীর্ঘ ১৪ মাস ধরে চলছে, যার কোন স্থায়ী সমাধান এখনো করা সম্ভব হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন দেশ টিকা আবিষ্কার করেছে কিন্তু সেসব ঠিক আর ক্ষেত্রেও রয়েছে আস্থাহীনতা। কারণ এসব টিকার বিষয়ে কোন দেশে শক্ত অবস্থানে নেই। তাইতো বাংলাদেশ কয়েক দফা ভারতের টিকা গ্রহণ করার পরেও এই সংকট সমাধান হবে তা নয়, বরং সংকট বেড়ে চলছে। করোনায় এমন অবস্থানের কারণে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে কারণ দেশের কল-কারখানা গাড়ি-ঘোড়া সবকিছু স্বাভাবিক ভাবে চলছে। শুধু বন্ধ রয়েছে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখান থেকে বের হবে দেশের সম্ভাবনাময় মুখগুলো। করোনার এই ১৪ মাসের মধ্যে একবারও কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হয় নাই যার ফলে শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একজন শিক্ষার্থী যিনি এই ১৪ মাস বাড়িতে বসে রয়েছে সে যে কি ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে তা আলোচনার দাবি
রাখে। তাহলে আসুন একটু আলোচনা করা যাক। সরকার অনলাইন এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখার একটা ব্যবস্থা করেছিল, কিন্তু সঠিক বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কারণ বাংলাদেশ নামক উন্নয়নশীল দেশে এমনটা করা সম্ভব নয়। আমরা যদি এখন শিক্ষার্থীদের জীবন কাঠামোর দিকে তাকাই তাহলে সেখানে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাই। যেমন একজন শিক্ষার্থীর যেখানে স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা শেষ করে চাকুরির মাধ্যমে নিজের জীবন কাঠামোকে সুন্দরভাবে সাজানো। সেখানে সেই শিক্ষার্থী এখন প্রতিনিয়ত নিজের পরিবার এবং পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতিনিয়ত হাসির খোরাকে পরিণত হয়েছে। এ ছাড়াও অনেকে আবার বাড়ির চাপের কারণে বিয়ে করে সংসার গোছানোর কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছে। যার ফলে আজ ছাত্র সমাজে দেখা দিয়েছে এক ধরনের হতাশা। তারা আর নিজের জীবন নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে এবং প্রতিনিয়ত হতাশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকার যে পরিকল্পনা নিয়েছে টিকা দেওয়ার পর স্কুল প্রতিষ্ঠান খোলার সেটা আদৌ দুই বছরের মধ্যে সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। কারণ আমাদের দেশের স্থানীয় প্রশাসনের যে কাঠামো তাতে করে প্রথম পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টিকা কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে ছয় থেকে সাত মাস সময় লাগবে। যদি এমনটা হয় তাহলে ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থা আরো সঙ্কটের মুখোমুখি হবে। কারণ কারণ এমন বসে থেকে নিজের সৃজনশীলতার মৃত্যু সত্য একজন শিক্ষার্থীর জন্য বেদনাদায়ক। এত দীর্ঘ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় তাদের খোঁজখবরও কেউ নিতে আসেনা। মনে হয় শিক্ষার্থীদের কে নিয়ে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। সবাই আজ নিজেকে নিয়ে
ব্যস্ত। বাংলায় একটা কথা আছে নিজে বাঁচলে বাবার নাম, এই কথাটি এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের কে একটু মানসিক সান্ত্বনা প্রদান করবে এমন লোকের বড়ই অভাব। শিক্ষার্থীরা আজ খুব করে বুঝতে পারছে তাদেরকে নিয়ে ভাববার মতো কেউ নেই। তাদের নিজেদের চিন্তা নিজেদেরকেই করতে হবে। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এখন যে অবস্থানে পৌঁছেছে তাতে করে বলা যায় এই সংকট সমাধান করতে সরকারকে অনেক কাঠ-খড় পোড়াতে হবে। তাছাড়াও বর্তমানে যে বাজেট পেশ করা হল সেখানে শিক্ষার বরাদ্দ করা হয়েছে ৬,১১৬ কোটি টাকা, যেখানে মহামারীর জন্য বরাদ্দ ১১,০৭৫ কোটি টাকা। এ এই সঙ্কট যে আস্তে আস্তে করণা মহামারীর মত রুপ লাভ করবে এমনটা বলা যায়। কথায় আছে বিন্দু বিন্দু পানি একসময় সমুদ্র সৃষ্টি করে। তাই সরকারের উচিত শিক্ষার প্রতি মনোযোগ প্রদান করা যাতে করে এই সংকট মহামারীর রূপ লাভ করতে না পারে। আবার সরকারের পাশাপাশি দেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় কেউ তৎপর হতে হবে তাদের ভুলে গেলে চলবে না তারাও এক সময় ছাত্র ছিল।যেখানে দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫ কোটি সম্পৃক্ত, সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে চিন্তা করতে হবে। অতঃপর মত নির্বিশেষে দেশের কথা চিন্তা করে দেশের এমন সম্ভাবনাময় সংকটের মুহূর্তে সংকট থেকে উদ্ধারের সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণে সরকারকে সাহায্য করা দেশের সুশীল সমাজের জন্য অতি প্রয়োজনীয় তবে সংকটমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব হবে।

জাফরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
০১৭৫৪৭৬৪০২৫

Facebook Comments


এ জাতীয় আরো খবর
NayaTest.jpg